আজ রবিবার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দেশের সাতটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র বেগে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ো হাওয়া ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আজ রবিবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের বিশেষ পূর্বাভাসে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের রংপুর, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ মাঝারি থেকে তীব্র বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে এই সাত অঞ্চলের নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে কিছুদিন ধরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি বর্তমানে কিছুটা দুর্বল হয়ে একই এলাকায় সাধারণ লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি আরেকটি শক্তিশালী লঘুচাপের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও সারা দেশে চলমান তীব্র গরম ও ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি এখনই কমছে না। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হলেও সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা আজ সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে, যদিও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে দেশের মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী ও পাবনাসহ পুরো খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বা গরম হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এই মৃদু তাপপ্রবাহ আরও কয়েকদিন পর্যন্ত টানা অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জনজীবন কিছুটা ওষ্ঠাগত থাকতে পারে। তবে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।