ছাব্বিশের ভোটের আগে অনুপ্রবেশ ইস্যুতেই প্রচারের সুর বেঁধেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহরা। কোনও রাখঢাক না রেখে সরাসরি বলেছিলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করব।’ পালাবদলের পরে সেই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালনের কাজ শুরু করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। সেই লক্ষ্যেই অনুপ্রবেশকারীদের জন্য ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ আইন চালুর ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার (২০ মে) নবান্ন সভাঘর থেকে তিনি সরাসরি বলে দিলেন, ‘যাঁরা সিএএ-র অন্তুর্ভুক্ত নন, তাঁরা অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে।’
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য এ দিন বিএসএফের হাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ২৭ কিলোমিটার জমি তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। বাংলাদেশের সাথে পশ্চিমবঙ্গে ২২০০ কিলোমিটারের সীমান্ত রয়েছে। তার মধ্যে কাঁটাতার রয়েছে ১৬০০ কিলোমিটার এলাকায়। ৬০০ কিলোমিটার এখনও বাকি।
এই নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘৫৫৫ কিলোমিটার এলাকায় চাইলেই জমি দিতে পারত। কিন্তু তোষণের জন্য দেয়নি।’
এর পরেই বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াতে নতুন আইন লাগুর ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘যাঁরা সিএএ-তে অন্তর্ভুক্ত নয়, তারাই অনুপ্রবেশকারী।’ সিএএ নিয়ে গত বছরের মে মাসে রাজ্য সরকারকে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ২০২৪-এর ৩১ ডিসেম্বরের পরে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি, খ্রিস্টানের বাইরে যাঁরা এসেছেন তাঁদের ফেরত পাঠাতে হবে। কিন্তু আগের তৃণমূল সরকার তা লাগু করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, ‘তাঁদের ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট করা হবে। রাজ্য পুলিশই গ্রেপ্তার করবে। তার পরে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে।’
অনুপ্রবেশকারীদের একটা বড় অংশই বাংলাদেশি বলে তীব্র কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘আইনশৃঙ্খলাজনিত অপরাধ, লাভ জিহাদ, নারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে সব অসামাজিক কাজকর্মের বৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি এবং যাঁরা এই সব কাজের সাথে যুক্ত, তাঁদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারী।’
সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রশাসনিক নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান শুভেন্দু। রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন একসাথে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। তিনি বলেন, ‘সীমান্তবর্তী জেলার প্রশাসনের সাথে কো-অর্ডিনেশন রেখে কাজ করবে রাজ্য সরকার।’
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ সীমান্তের জেলাগুলিতে নিয়মিত প্রশাসনিক বৈঠক করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।