কঙ্গোয় ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ে ক্ষোভে চিকিৎসা কেন্দ্র পুড়িয়ে দিলো স্থানীয়রা

0
5
কঙ্গোয় ইবোলা প্রাদুর্ভাব নিয়ে ক্ষোভে চিকিৎসা কেন্দ্র পুড়িয়ে দিলো স্থানীয়রা

পূর্ব কঙ্গোর ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল রুয়ামপারা শহরে এক চিকিৎসাকেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একটি মৃতদেহ উদ্ধারে বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই ঘটনা ঘটায় যুবকেরা। এতে করে এই অঞ্চলে ইবোলা সংকট নিয়ে ভয় ও ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইবোলায় মৃত এক বন্ধুর মৃতদেহ উদ্ধার করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হন স্থানীয় যুবকেরা। পরে তারা চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে ভেতরের জিনিসপত্র এবং সেখানে রাখা সন্দেহভাজন ইবোলা রোগীর মৃতদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়। সাহায্যকর্মীরা গাড়ি করে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

স্থানীয় ছাত্র অ্যালেক্সিস বুরাতা বলেন, “পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত যুবকেরা কেন্দ্রটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।”

ইতুরি প্রদেশের জননিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ডেপুটি সিনিয়র কমিশনার জঁ ক্লদ মুকেন্দি জানান, সন্দেহভাজন ইবোলা রোগীকে কীভাবে দাফন করতে হবে, তা যুবকেরা বুঝতে পারেনি। তিনি বলেন, “কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও পরিবার ও বন্ধুরা মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করতে চেয়েছিল। অথচ ইবোলায় মৃত সকলের দেহ নির্দিষ্ট নিয়মে দাফন করতে হবে।”

মানবিক সংস্থা আলিমার ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর হামা আমাদু অবশ্য জানিয়েছেন, পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে এবং কেন্দ্রে কাজ চলছে।

এই ঘটনা কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ ও সাহায্য সংস্থাগুলোর সামনে ইবোলা নিয়ন্ত্রণে দাঁড়ানো জটিলতার কথাই তুলে ধরেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই প্রাদুর্ভাবকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দুটি প্রদেশে ১৬০ জনের সন্দেহজনক মৃত্যু এবং ৬৭১ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে ডব্লিউএইচও বলছে, প্রকৃত আকার সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়েও অনেক বড়। ভাইরাল হেমোরেজিক ফিভার বিশেষজ্ঞ আনাইস লেগান্ড জানান, প্রাদুর্ভাবের মাত্রা দেখে মনে হচ্ছে “এটি সম্ভবত কয়েক মাস আগে শুরু হয়েছিল।”

ইতুরি ও উত্তর কিভুর পর এবার দক্ষিণ কিভু প্রদেশেও ইবোলা ছড়িয়েছে। এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরের কাছে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। দিনের শেষে সেখানে আরও একটি ঘটনা নিশ্চিত করা হয়।

স্থানীয় রীতিনীতি ও দাফন প্রথার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি সংঘর্ষ বাঁধাচ্ছে। ইবোলায় মৃতদের দেহ অত্যন্ত সংক্রামক, তাই নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে দাফন বাধ্যতামূলক। কিন্তু পরিবার ও বন্ধুরা স্বাভাবিক নিয়মেই শেষকৃত্য করতে চান, যা প্রতিবাদের কারণ হচ্ছে।

উপরন্তু, এই অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল। ইতুরি প্রদেশেই ৯ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মঙ্গলবার আলিমা গ্রামে জঙ্গি হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন।

এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্দিবুগিও স্ট্রেইনের কোনো টিকা বা ওষুধ এখনো সহজলভ্য নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তা পেতে অন্তত ছয় থেকে নয় মাস লেগে যেতে পারে।

রেড ক্রসের আরিয়েল কেস্টেনস বলেন, “এখন অগ্রাধিকার হলো দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা, কারণ আগামী দিনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কারণে আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে হওয়ার কথা থাকা ভারত-আফ্রিকা ফোরাম শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া কঙ্গোর ফুটবল দল তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ক্যাম্প বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্র গত ২১ দিনে কঙ্গো, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদান ভ্রমণকারী যাত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক। জ্বর, বমি, ডায়রিয়া, পেশিব্যথা ও রক্তপাত এর প্রধান লক্ষণ। পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here