বিশ্বকাপের প্রস্তুতির মাঝেই বড় স্বস্তির খবর পেল ইরান। দীর্ঘ আলোচনা, অনিশ্চয়তা আর কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা মেনে নিয়েছে ইরানের বিরল আবেদন। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দলটির প্রস্তুতি পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আসছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ নিশ্চিত করেছেন, ফিফা তাদের বিশ্বকাপ ঘাঁটি পরিবর্তনের আবেদন অনুমোদন করেছে।
প্রথমে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত ঘাঁটি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসন শহরে থাকার কথা ছিল ইরানের। কিন্তু নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই উদ্বেগ ছিল দেশটির।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শঙ্কার মধ্যেই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল ইরানকে ঘিরে। এমনকি দলটির অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে ইরানের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসর।
শুরুতে নিজেদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করেছিল ইরান। তবে জটিল ব্যবস্থাপনার কথা বলে সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয় ফিফা।
তবে আলাদা একটি আবেদনে সাড়া দিয়েছে সংস্থাটি। ইরানের দলীয় ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের টাকসন থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় স্থানান্তরের অনুমতি দিয়েছে ফিফা।
শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান মেহদি তাজ। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশের দলীয় ঘাঁটি ফিফার অনুমোদনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। সৌভাগ্যক্রমে, আমরা যে আবেদন জমা দিয়েছিলাম এবং ইস্তাম্বুলে ফিফা ও বিশ্বকাপ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যে বৈঠক করেছি, পাশাপাশি তেহরানে ফিফার মহাসচিবের সঙ্গে অনলাইন আলোচনার পর আমাদের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে।”
এই পরিবর্তন ইরানের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করবে। বর্তমানে তুরস্কে অনুশীলন শিবিরে রয়েছে ইরানের ফুটবলাররা।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ১৫ জুন নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর একই মাঠে ৬ দিন পর খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ ২৭ জুন মিসরের বিরুদ্ধে।
তিহুয়ানা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে বিমানে যেতে সময় লাগে মাত্র ৫৫ মিনিট। ফলে যাতায়াত সহজ হবে বলে মনে করছে ইরান।
আরেকটি বড় সুবিধা হলো, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে শুধু ম্যাচ খেলতে গিয়ে আবার ফিরে আসতে হবে। এতে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতাও অনেকটা কমে যাবে।
মেহদি তাজের বিশ্বাস, বিশেষ পরিস্থিতিতে ইরানের নিজস্ব উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগও পাওয়া যেতে পারে।
এশিয়া অঞ্চলের বাছাইয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে মার্চেই বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিল ইরান। এটি তাদের সপ্তম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ।
এবার তাদের লক্ষ্য শুধু অংশ নেওয়া নয়, বরং ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো গ্রুপপর্ব পেরিয়ে পরের ধাপে ওঠা। বিশ্বকাপের আগে ঘাঁটি বদলের অনুমোদন সেই লক্ষ্যপূরণে ইরানকে নতুন স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস এনে দিল।