কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে গিলগিল এলাকায় একটি আবাসিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও কয়েক ডজন শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোররাতে উতুমিশি গার্লস একাডেমির একটি ছাত্রাবাসে এ আগুনের ঘটনা ঘটে। সে সময় শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে ছিল।
দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জুলিয়াস ওগাম্বা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং আরও সাতজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে। কেনিয়া রেড ক্রস জানিয়েছে, জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ছাত্রাবাসের প্রথম তলায় আগুনের সূত্রপাত হয় এবং পুরো অংশটি পুড়ে যায়। রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।
ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিড় করছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও স্বজনরা। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের খোঁজে পুলিশ আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১টার দিকে আগুন লাগে। প্রায় ২২০ শিক্ষার্থী থাকা একটি ডরমিটরি মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে যায়। আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থী পালিয়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিপচুম্বা মুরকোমেন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রাণ বাঁচাতে অনেক শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসের ওপরতলা থেকে লাফ দেন। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
কেনিয়ায় আবাসিক বিদ্যালয়ে অগ্নিকাণ্ড নতুন নয়। অতীতে শৃঙ্খলা ও আবাসিক পরিবেশ নিয়ে অসন্তোষের জেরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, নিরাপত্তা নির্দেশনা না মানা এবং জরুরি নির্গমনপথ বন্ধ থাকাকেও প্রাণহানির বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়।
দেশটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ স্কুল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২০০১ সালে। সে সময় রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি বিদ্যালয়ে ছাত্রাবাসে আগুন লাগিয়ে দেয় কিছু শিক্ষার্থী। ওই ঘটনায় ৬৭ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল।