পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন গতি এসেছে। সদ্য সমাপ্ত মে মাসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা ধরে)। এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি বছরের মার্চ মাসে, ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মে মাসের ২৮ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ায় মাসজুড়ে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ঈদের কেনাকাটা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে তারা বেশি পরিমাণে অর্থ পাঠিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ৭৫০ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ, প্রবাসীদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে রেমিট্যান্স ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
মাসভিত্তিক হিসাবেও চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক ছিল। জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি মাসেই উল্লেখযোগ্য অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এসেছে, যার ধারাবাহিকতায় মে মাসে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১ জুন পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভ ৩০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার।