ঢাকা থেকে স্বামীর লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি যশোরে ফেরার পথে বাস-অ্যাম্বুলেন্স মুখোমুখি সংঘর্ষে স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫৫) ও অ্যাম্বুলেন্স চালক আকবর হোসেন (৩৫) নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় নিহতের ছেলে আবু তাহেরসহ আহত হয়েছেন আরও ৫জন।
বুধবার (৩ জুন) সকাল আটটার দিকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা মহাসড়কের নড়াইল সদর উপজেলার পূর্ববালিয়াডাঙ্গা বাদশার গ্যারেজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেননড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনরা জানান, যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের মাহিদিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন মোল্যা (৬৫) দূরারোগ্যব্যধি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তার ছেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর, বুধবার ভোরে ইসমাইল মোল্যা মারা যান।
আবু তাহের তার বাবার মরদেহসহ মা ও স্বজনদের নিয়ে অ্যাম্বুল্যান্সযোগে যশোরে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে নড়াইল সদরের পূর্ব-বালিয়াডাঙ্গা বাদশার এলাকায় পৌঁছালে ভাটিয়াপাড়াগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে মুচকে যায়। বাসটির সামনের অংশও বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত ইসমাইল মোল্যার স্ত্রী জাহানারা বেগম মারা যান। এছাড়া, হাসপাতালে নেয়ার পর অ্যাম্বুল্যান্সচালক আকবর হোসেনকেও কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অ্যাম্বুল্যান্সচালকের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি ঢাকায় বসবাস করে অ্যাম্বুল্যান্স চালাতেন। এদিকে, দুর্ঘটনায় আহত ৫ জনকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেয়া হয়।
নিহতের স্বজন আনোয়ার কামাল লিটন জানান, বেশ কয়েক বছর আগে নিহতের আরেক ছেলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বর্তমানে ওই পরিবারে তাদের ছেলে আবু তাহের ছাড়া আর কেউ রইল না।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত মেডিকেল কর্মকর্তা লিপিকা রানী বিশ্বাস জানান, হাসপাতালে নেয়ার আগে একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত ৫ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু জানান, ঢাকা পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত এস আই আবু তাহেরের মৃত পিতাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সদর উপজেলার পূর্ব-বালিয়াডাঙ্গায় বাস-অ্যাম্বুল্যান্স সংঘর্ষে তার মাও নিহত হয়েছেন। অ্যাম্বুল্যান্সচালককে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান। মরদেহগুলো জেলা হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিতঅ্যাম্বুল্যান্সও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসের চালক পালিয়ে গিয়েছে।