এক ফোঁটা পানির জন্য আর্তনাদ, সাহারায় প্রাণ হারালেন ৪৯ যাত্রী

0
2
এক ফোঁটা পানির জন্য আর্তনাদ, সাহারায় প্রাণ হারালেন ৪৯ যাত্রী

অসীম বালুর সমুদ্রের মাঝে চারদিকে শুধু মৃত্যু আর নীরবতা। তীব্র তৃষ্ণায় শুকিয়ে যাচ্ছিল গলা, চোখের সামনে একে একে লুটিয়ে পড়ছিলেন সঙ্গীরা। কিন্তু কোথাও ছিল না এক ফোঁটা পানির সন্ধান। শেষ পর্যন্ত সাহারা মরুভূমির নির্মম বুকে প্রাণ হারালেন ৪৯ জন যাত্রী।

পশ্চিম আফ্রিকার নিগারের আগাডেজ প্রশাসন বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মালির তেলহ্যান্ডেক শহর থেকে ৫০-৬০ জনের একটি দল ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে ট্রাকে করে ফিরছিলেন। পথে সাহারা মরুভূমির দুর্গম ‘ডেথ জোন’-এ তাদের ট্রাকটি বিকল হয়ে পড়ে।

আলজেরিয়া, মালি ও নিগারের সীমান্তঘেঁষা এই জনমানবশূন্য এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও ট্রাকটি সচল করা সম্ভব হয়নি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আশপাশে অন্য কোনো যানবাহনেরও দেখা মেলেনি। সাথে থাকা অল্প পরিমাণ পানি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় বেঁচে থাকার মরিয়া সংগ্রাম।

প্রশাসনের ভাষ্য, ট্রাকে থাকা কয়েকটি প্লাস্টিকের ড্রামে যে পানি ছিল, তা মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই ফুরিয়ে যায়। এর পর তীব্র গরম, হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং অসহনীয় তৃষ্ণায় যাত্রীরা একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ঘটনার ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় উদ্ধারকারীদের বর্ণনায়। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, মরুভূমির বালুচরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে মানুষের নিথর দেহ। কেউ ট্রাকের ভেতরে, কেউ ছায়ার আশায় ট্রাকের নিচে, আবার কেউ হয়তো পানির সন্ধানে কিছুটা দূরে গিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

তবে মৃত্যুর মিছিলের মাঝেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান দু’জন। তারা প্রায় ৫০ কিলোমিটার মরুভূমি পাড়ি দিয়ে আসামাকা এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে পানির সন্ধান পান। পরে স্থানীয় প্রশাসনকে পুরো ঘটনার কথা জানান। কিন্তু উদ্ধারকারী দল পানি ও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ৪৯ জনের জীবনপ্রদীপ নিভে যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সবাই একই সময়ে মারা যাননি। দেড় থেকে তিন দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কাছে হার মানেন তারা। তাদের কাছে মোবাইল ফোন থাকলেও দীর্ঘ সময় আটকে থাকার কারণে ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায়। ফলে বাইরের বিশ্বের সাথে যোগাযোগের শেষ সম্ভাবনাটুকুও হারিয়ে ফেলেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here