সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এসময় তিনি বলেন, দেশে ধর্ষণ ও হত্যাসহ নানা অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের মানুষ সরকারের কর্মকাণ্ডে হতাশ।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার অধিবেশনে এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয় বাদে সব মন্ত্রণালয়ের খোঁজ রাখেন। তার নিজের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিনিয়ত অবনতি হচ্ছে। আমাদের বাংলাদেশ বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে ২ বার স্বাধীন হয়েছে। ৪৭ সালে একবার আবার ১৯৭১ সালে। কিন্তু দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যাদের ছিলো তারা মানুষের প্রত্যাশার পারদকে ধ্বংস করে দিলো। মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা নাই। অহরহ এই ঘটনা দেখছি।
গণভোট ও সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এদেশের মানুষ বড় আশায় বুক বেঁধেছিলো। এত মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে একটা পরিবর্তন হলো। দেশে সংস্কারের জন্য গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দিনে জনগণ দুটি ভোট দিয়েছে। একটি ভোটের মূল্যায়ন হলো। আরেকটির হয়নি। শাসনের যে ধারায় অতীতের শাসকদের ফ্যাসিবাদী করে তুলেছিলো এবার জনগণ চেয়েছিল সে ধারার পরিবর্তন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে মানুষ ফ্যাসিবাদী ধারার পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতাসীনরা তা বাস্তবায়ন হতে দেয়নি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকারগুলোও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
তিনি বলেন, একই দিনে দুটি ভোট হলেও ক্ষমতার জন্য একটি ভোট মেনে নেয়া হয়েছে, কিন্তু সংস্কারের প্রশ্নে গণভোট মেনে নেয়া হয়নি। জনগণের দেয়া রায় সরকার অগ্রাহ্য করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় বসে গুম কমিশন, দুদক, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে ফ্যাসিবাদী কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বিএনপি।