কুষ্টিয়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় জহির রায়হান (৩২) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ (শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল)-এর বিচারক এএইচএম শফিকুল ইসলাম আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত জহির রায়হান কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হররা ডাক্তারপাড়া গ্রামের নুর নবীর ছেলে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের একটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে স্কুলে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত ও বিরক্ত করার অভিযোগ ওঠে জহির রায়হানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি পরিবারকে জানালে স্থানীয়ভাবে তাকে সতর্ক করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৩ মার্চ রাতে ওই ছাত্রীর বাবা-মা পাশের বাড়িতে গেলে সুযোগ নিয়ে জহির রায়হান তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় ওই ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করেন।
পরে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় জহির রায়হানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে কুষ্টিয়া মডেল থানার উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত জহির রায়হানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালে গ্রেপ্তারের পর জহির রায়হানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।