মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে বাড়ছে লাভ

0
1
মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষে বাড়ছে লাভ

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। কম খরচে কম সময়ে বেশি ফলন পাওয়ায় বিশেষ করে তরুণ কৃষকেরা এ পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনাও বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাবুগঞ্জে প্রায় ৩ হেক্টর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ হচ্ছে। এসব জমিতে শসা, পেঁপে, করলা, পটল, চিচিঙ্গা ও বরবটির আবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবি, এ পদ্ধতিতে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি ফলনও বেড়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা দিনদিন বাড়ছে।

মালচিং হলো এমন একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, যেখানে জমির বেড বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক শিট বা জৈব উপাদান দিয়ে ঢেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে বীজ বা চারা রোপণ করা হয়। এতে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে, আগাছা কম জন্মায় এবং সেচ ও সারের ব্যবহারও কমে। একইসাথে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। ফলে কম খরচে বেশি ফলন পাওয়া যায়।

উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের লাকুটিয়া এলাকার তরুণ কৃষক রাকিবুল ইসলাম পড়াশোনার পাশাপাশি মালচিং পদ্ধতিতে একটি সমন্বিত কৃষি প্রকল্প গড়ে তুলেছেন। মাত্র ৪০ শতক জমিতে চিচিঙ্গা, বরবটি, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি চাষ এবং টমেটোর চারা উৎপাদন করে তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন।

রাকিবুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে চিচিঙ্গা ও বরবটি বিক্রি করে তিনি লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। উৎপাদন ব্যয় কম হওয়ায় লাভও বেড়েছে। আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

একই উপজেলার কৃষক শামীম বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে আগাছা কম জন্মায়। ফলে আগাছা পরিষ্কার করতে শ্রম ও খরচ দুটোই কম লাগে। এছাড়া সারের ব্যবহার এবং সেচের পানির প্রয়োজনও তুলনামূলকভাবে কম হয়। প্লাস্টিক মালচের কারণে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে, ফলে গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং ফলনও বৃদ্ধি পায়। একই জমিতে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করাও সহজ হয়।

বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, মালচিং একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক কৃষি পদ্ধতি। এতে পানির অপচয় কমে, আগাছা দমন সহজ হয় এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও কমে। পাশাপাশি সেচ, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়। ফলে কৃষকেরা কম খরচে বেশি ফলন ও বেশি লাভের সুযোগ পান।

তিনি আরও বলেন, বাবুগঞ্জে মালচিং পদ্ধতির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ প্রযুক্তির প্রসারে কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এ পদ্ধতির ব্যবহার আরও বাড়লে উপজেলার সবজি উৎপাদন এবং কৃষকদের আয় দুটোই আরও বৃদ্ধি পাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here