দীর্ঘ আট বছর পর লন্ডনে বড় ছেলে, পুত্রবধূ ও তিন নাতনির সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখান থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঈদের দিন গত সোমবার ঢাকায় দলীয় নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। নেতাদের উদ্দেশে বেগম জিয়া বলেন, ‘একে অন্যকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই মিলে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গত ৮ জানুয়ারি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো রাজকীয় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পৌঁছেন।
লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ঈদের দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডাম উনার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় আছেন। ঈদের দিনটি উনি বাসায় আপনজনদের নিয়ে একান্তে কাটিয়েছেন। ম্যাডামকে ঘিরে ঈদের সব আয়োজন তাঁরাই সাজিয়েছেন।
কারণ দীর্ঘদিন পর ম্যাডাম আপনজনদের সঙ্গে ঈদ করছেন; এখানে অনেক আবেগ জড়িত।’
খালেদা জিয়ার লন্ডনে এটি তৃতীয় ঈদ উদযাপন। এবার ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ঈদ উদযাপন করছেন। এর আগে ২০১৭ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে ছেলের বাসায় ঈদুল আজহা উদযাপন করেছিলেন।
এরও আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় আট বছর পর লন্ডনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছিলেন।
নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় : গত সোমবার রাত ৯টার দিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে খালেদা জিয়া ঈদ মোবারক জানান এবং তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বড় পর্দায় বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও।
এই অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ করেন।
সবার উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আপনাদের এত ত্যাগ ও সংগ্রাম বৃথা যায়নি এবং যাবে না। দেশবাসীর ভোটাধিকার সবাই মিলে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ পরে তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। দীর্ঘদিন পর সবাইকে এভাবে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় আগামী দিনের পথচলায় দেশবাসীর দোয়া ও আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বব চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমানসহ দলের সিনিয়র নেতারা। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীও ছিলেন এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে।
এদিকে গত রবিবার যুক্তরাজ্যে ঈদের দিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকাল ১০টায় লন্ডনের কিংসমিডো স্টেডিয়ামের খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ উজ্জামান সোহেল জানিয়েছেন, তারেক রহমানের সঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নিতে কিংসমিডো স্টেডিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক শ নেতাকর্মী উপস্থিত হন।
লন্ডনের পার্কে মাকে নিয়ে হাঁটলেন তারেক রহমান : যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছেলে তারেক রহমানের বাসায় আনন্দঘন পরিবেশে সময় কাটছে তাঁর। এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার লন্ডনের একটি পার্কে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে মুক্ত পরিবেশে ঘুরতে বের হয়েছেন তিনি। এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে নিয়ে পার্কে বেড়ানোর একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এতে দেখা যায়, পার্কের ভেতরের ফুটপাতে খালেদা জিয়াকে হুইলচেয়ারে করে একজন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাঁর পাশেই তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যদের হাঁটতে দেখা যায়। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকেও হুইলচেয়ারের সামনে থেকে হাঁটতে দেখা গেছে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। গত ৮ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি লন্ডনের দ্য ক্লিনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তারেক রহমানের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

