এমন দেশ গড়তে চাই যেখানে জনগণই মালিক: সেনাকুঞ্জে প্রধান উপদেষ্টা

“মুক্তিযোদ্ধারা বৈষম্যহীন, শোষণহীন এবং কল্যাণময় রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন। আমি তাদের সেই স্বপ্ন পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ।

0
247

“আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে জনগণই হবে সকল ক্ষমতার মালিক,” বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা বৈষম্যহীন, শোষণহীন এবং কল্যাণময় রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন। আমি তাদের সেই স্বপ্ন পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা এমন একটি জাতি গড়ার কাজ শুরু করেছি, যেখানে কেউ কারো ওপরে বা নিচে থাকবে না। সবাই এক বৃহত্তর পরিবারের বন্ধনে আবদ্ধ থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। পররাষ্ট্রনীতিতে আমরা পারস্পরিক সম্মান, আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখব। জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, বৈশ্বিক শান্তি এবং অর্থনীতি সুসংহত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একত্রে কাজ করতে হবে।”

মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা একসঙ্গে লড়াই করে এ স্বাধীনতা অর্জন করেছেন।”

তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সশস্ত্র বাহিনীকে ‘বাংলাদেশ ফোর্সেস’ নামে সাংগঠনিক রূপ দেওয়া হয়। ১১টি সেক্টরে বিভক্ত হয়ে সশস্ত্র বাহিনী এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়। নৌবাহিনীর ‘অপারেশন জ্যাকপট’ এবং বিমানবাহিনীর ‘কিলো ফ্লাইট’-এর মতো সফল অভিযানগুলো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।”

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে অধ্যাপক ইউনূস ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি সকালে সেনানিবাসে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। এ সময় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল তাঁকে সালাম জানায়।

“আমাদের নতুন বাংলাদেশ ছাত্র-জনতার সাহস ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত,” বলেন অধ্যাপক ইউনূস। “এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়তে বদ্ধপরিকর।”

তিনি আরও বলেন, “আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের। তাদের সান্নিধ্যে আসা আমার জন্য গর্বের ও অনুপ্রেরণার।”

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি উঠে আসে, যা জনগণের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারকে আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here