লক্ষ্মীপুরে জামায়াত-বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কাউছারকে হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জামায়াত বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে। জামায়াতের জেলা কমিটির সেক্রেটারি ফারুক হোসাইন নুরনবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

0
77

লক্ষ্মীপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হামলায় আহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর জামায়াত নেতা কাউছার আহম্মদ মিলনের (৬০) মৃত্যুর অভিযোগে ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় নিহতের স্ত্রী শিল্পী আক্তার বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এতে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০ জনকে আসামি করা হয়।

আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কাউছারকে হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জামায়াত বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে। জামায়াতের জেলা কমিটির সেক্রেটারি ফারুক হোসাইন নুরনবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে পরিবার ও জামায়াত কাউছারের মৃত্যুতে বিএনপিকে দায়ী করা হচ্ছে। মামলার আসামিরা বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে কারো পদ পদবী জানা যায়নি।

গত শুক্রবার বিকেলে নিহতের জানাজায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু ও যুগ্ম-আহবায়ক হাসিবুর রহমানসহ বিএনপি নেতারা জামায়াতের নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়ে। পরে একইদিন রাতে জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনায় বিএনপি ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় কমিটিকে। বিএনপির দাবি, ঘটনাটি স্থানীয় ঝামেলা, রাজনৈতিক কোনো ইস্যু নয়।

একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে শহরের গোডাউন রোড এলাকার বশির ভিলা হল রুমে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেছে বিএনপি। জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন মো. রিয়াজ, মো. রনি, মো. কামাল, মো. সোহাগ, মো. জহির, রকি, মো. বাবুল, সোহেগ হেবেছা, বাবুল, মো. সাহেদ, মো. সুমন, স্বপন আহমেদ ও অজ্ঞাত ২০ জন। তারা আদিলপুর ও রাজিবপুর এলাকার বাসিন্দা।

নিহত কাউছার আহমেদ রাজিবপুর এলাকার মৃত মমিন উল্যার ছেলে ও বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়ন জামায়াতের ওলামা বিভাগের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে নিহত কাউছারদের বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার (৫ জুন) দুপুরে রাজিবপুর এলাকায় বাদীর বাড়ির সামনে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কাউসারের ভাই আফতাব হোসেন আরজুর ওপর হামলা করে। এসময় তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করা হয়। ঘটনাটি দেখে কাউছার তার ভাইকে বাঁচাতে যায়। তখন তার মাথার পেছনে লোহার রড দিয়ে কয়েকটি আঘাত করা হয়। এরপর মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের সামনে তাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এতে ভয়ে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে আসে। পরে সন্ধ্যায় কাউছারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, নিহতের স্ত্রী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here