কোল্ডপ্লের কনসার্টে সহকর্মীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় ধরা পড়ার জেরে পদত্যাগ করেছেন নিউইয়র্কভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রোনমারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যান্ডি বাইরন। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া এক বিবৃতির বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ বাইরনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে এবং নতুন সিইও নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল অ্যান্ডি বাইরনকে।
শনিবার অ্যাস্ট্রোনোমার লিঙ্কডইনে এক বিবৃতিতে জানায়, বাইরন সিইওর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান পণ্য কর্মকর্তা পিট ডি-জয় অন্তর্বর্তী সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে আচরণ ও জবাবদিহির যে মানদণ্ড প্রত্যাশা করে, সম্প্রতি সেই মানদণ্ড রক্ষা করা হয়নি।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবোরোর জিলেট স্টেডিয়ামে ব্রিটিশ ব্যান্ডদল কোল্ডপ্লের কনসার্টে ঘটনার সূত্রপাত হয়।কনসার্ট চলাকালে স্টেডিয়ামের বিশাল পর্দায় (স্ক্রিন) হঠাৎ এক নারী ও এক পুরুষের ছবি ভেসে ওঠে। তারা আলিঙ্গনবদ্ধ অবস্থায় দাঁড়িয়ে গানের তালে তালে দুলছিলেন।
ক্যামেরায় ধরা পড়তে দেখে মুহূর্তের মধ্যে তারা লজ্জায় মুখ লুকানোর চেষ্টা করেন। নারীটি ঘুরে গিয়ে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেন, পুরুষটি নিচু হয়ে বসে পড়েন। এই দৃশ্য দেখে কোল্ডপ্লের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন মঞ্চ থেকে বলেন, ‘হয় তারা প্রেম করছেন, নয়তো তারা খুবই লাজুক।’ মুহূর্তটি ধারণ করা ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ‘ইন্টারনেট গোয়েন্দারা’ দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘেঁটে এই নারী-পুরুষের পরিচয় শনাক্ত করে ফেলেন। জানা যায়, ভিডিওতে থাকা পুরুষটি হচ্ছেন অ্যাস্ট্রোনোমারের সিইও অ্যান্ডি বাইরন। আর বাইরনের সঙ্গে থাকা নারী তার স্ত্রী নন। তিনি একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান জনসম্পদ কর্মকর্তা ক্রিস্টিন ক্যাবট।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সিইও হিসেবে অ্যাস্ট্রোনমারে যোগ দেন অ্যান্ডি। নিউইয়র্কে অবস্থিত সফ্টঅয়্যার ডেভেলপমেন্ট সংস্থাটির বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ১৩০ কোটি ডলার।
অ্যাস্ট্রোনমারে যোগ দেওয়ার আগে ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সাইবারিজনের চিফ রেভিনিউ অফিসারের পদে ছিলেন অ্যান্ডি। তার দক্ষতার ওপর নির্ভর করেই সংস্থার মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০ লাখ ডলার থেকে ৭ কোটি ডলারে পৌঁছে যায়। ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত তিনি লেসওয়ার্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন। পরে অবশ্য ওই সংস্থাতেই উপদেষ্টার ভূমিকায় দেখা যায় অ্যান্ডিকে।

