চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১৭৯ জনের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “অনেক রোগী হাসপাতালে আসছেন দেরিতে, খারাপ অবস্থায় ভর্তি হচ্ছেন। ফলে চিকিৎসা দেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ মিলছে না। এ কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি।”
ডা. জাফর জানান, গত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে সর্বাধিক রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু হয়েছিল। এবারও একই ধারা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “যত ব্যবস্থাপনাই গ্রহণ করা হোক না কেন, জনগণ সচেতন না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডেঙ্গু শনাক্তে ব্যবহৃত এনএস১ কিট পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে কাজ করছেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে ডা. জাফর বলেন, “রোগ যদি শুরুতেই শনাক্ত না হয়, সময়মতো চিকিৎসা শুরু না হয়, তাহলে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম জনগণের সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ১২ জন মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও এর মধ্যে ৯ জন মারা গেছেন বৃহস্পতিবার। সরকারি ছুটির কারণে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

