গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া মানবিক সহায়তাবাহী একটি ফ্লোটিলা ইসরায়েলি নৌবাহিনী কর্তৃক আটক হওয়ার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপ থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত নানা প্রান্তে বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলবিরোধী স্লোগানে রাস্তায় নামেন এবং দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের এই বহরটি গত মাসে স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ইসরায়েলের গাজা অবরোধকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দুই বছরের যুদ্ধের পর অবরুদ্ধ গাজায় বর্তমানে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ইসরায়েলি নৌবাহিনী গত বুধবার থেকে ফ্লোটিলার ৪১টি জাহাজ এবং এর ৪০০-এরও বেশি যাত্রীকে থামিয়ে দিয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা এবং বার্সেলোনার সাবেক মেয়র আডা কলাও। ইসরায়েল জানিয়েছে, আটককৃতদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
আয়ারল্যান্ড: আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে কয়েকশ বিক্ষোভকারী পার্লামেন্ট ভবনের সামনে মিছিল করেন। দেশটিতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সঙ্গে তুলনা করা হয়। ডাবলিনের এক বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী মিরিয়াম ম্যাকন্যালি, যার মেয়ে ফ্লোটিলার সঙ্গে যাত্রা করেছিলেন, তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করলেও একই সঙ্গে গর্বিত বলে জানান।
স্পেন: স্পেনের বার্সেলোনায় ইসরায়েলের গাজা অবরোধবিরোধী বিক্ষোভে নগর পুলিশের মতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নেন। মিছিলকারীরা ‘গাজা, তুমি একা নও’, ‘ইসরায়েল বয়কট করো’ এবং ‘ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা চাই’ স্লোগান দেন। স্প্যানিশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখা যায়, একদল বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা করলে দাঙ্গা পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
ফ্রান্স: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রায় এক হাজার মানুষ রিপাবলিক স্কয়ারে বিক্ষোভ করেন। দক্ষিণ ফ্রান্সের মার্সেই বন্দরে শতাধিক প্রো-ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা অভিযোগ করেন, অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ইউরোলিংকস’ ইসরায়েলকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।
এএফপির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, জার্মানির বার্লিন, নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ, তিউনিসিয়ার তিউনিস, ব্রাজিলের ব্রাসিলিয়া এবং আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ার্স-এও ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

