সৌদি থেকে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানো সম্ভব: গভর্নর

0
62

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক দৃঢ় হলেও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আরও গভীরতা আনা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা এবং শ্রমবাজারের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে এখন আরও বেশি কাজ করা উচিত।

আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘সৌদি আরব-বাংলাদেশ ব্যবসা সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সৌদি আরব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএবিসিসিআই) এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃদেশীয় বিনিয়োগ ও অর্থ লেনদেন একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। বিশেষ করে, সৌদি আরব বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। এই রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সৌদি আরব থেকে প্রবাসীরা তাঁদের আয়ের ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ স্থানান্তরের জন্য খরচ করেন, যা কমানো সম্ভব। তিনি দুই দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলারের উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, দেশটি এখন ট্রিলিয়ন ডলারের পথে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক নানা ধাক্কা সত্ত্বেও গত ৩০ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কখনো সাড়ে ৩ শতাংশের নিচে নামেনি। এই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে তিনি সৌদি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

গভর্নর আরও আশা প্রকাশ করেন যে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) মতো বিশাল তহবিল থেকে বাংলাদেশ যেন বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের বিশাল বিনিয়োগ তহবিল বাংলাদেশের মূলধন বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে ‘ফ্রন্টিয়ার ইকোনমি’ থেকে ‘ইমার্জিং মার্কেট’-এ উন্নীত করতে সৌদি তহবিলের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন। তিনি দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং জ্বালানি ও বস্ত্র খাতের বাইরেও বহু খাতে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগের কথা তুলে ধরেন।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ মূল প্রবন্ধে বলেন, সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা বিশাল হলেও কোনো দেশই এখনো একে অপরের শীর্ষ পাঁচ বাণিজ্য অংশীদারের তালিকায় নেই। তিনি বস্ত্র, তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য, চামড়া পণ্য, ওষুধ ইত্যাদি পণ্য সৌদি আরবে রপ্তানি এবং বাংলাদেশে খনিজ, রাসায়নিক পণ্য, এলএনজি, সার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সরবরাহ খাতে সৌদি বিনিয়োগের সুযোগের কথা উল্লেখ করেন।

এসএবিসিসিআই সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সদ্য প্রতিষ্ঠিত এই চেম্বারটি বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষ নার্স ও শ্রমিক রপ্তানি বাড়ানো এবং বাংলাদেশে অবকাঠামো, সরবরাহ, তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি খাতে সৌদি বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে গত সেপ্টেম্বরে সৌদি-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএবিসিসিআই) যাত্রা শুরু করে।