গহনা ছিনিয়ে নিতে দাদিকে হত্যা: ফাউজিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

0
63

নাটোরের বড়াইগ্রামে মমতাজ বেগম (৬৯) নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন তার নাতনি ফাউজিয়া খাতুন (১৯)। শরীরে থাকা গহনা হাতিয়ে নিতেই তিনি দাদিকে হত্যা করেন বলে বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন।

নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের (সুমন) কাছে ফাউজিয়া এই জবানবন্দি দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌর এলাকার সর্দারপাড়ার নিজ বাড়িতে প্রয়াত প্রকৌশলী এস এম শফিউল্লাহর স্ত্রী মমতাজ বেগমের মরদেহ গত রবিবার রাতে উদ্ধার করা হয়। তার মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরদিন নিহতের ছেলে জাকির হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

ওসি গোলাম সারওয়ার ফাউজিয়ার জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানান, ঘটনার রাতে বাড়ির প্রহরী এশার নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে ফাউজিয়া তার দাদির শোবার ঘরে ঢোকেন। এ সময় তিনি সেখানে স্বামীকে নিয়ে রাত্রিযাপন করতে চান, কিন্তু মমতাজ বেগম তাতে রাজি হননি। তখন ফাউজিয়া হাতে থাকা টর্চলাইট দিয়ে মমতাজ বেগমের মুখমণ্ডলে আঘাত করেন। এতে তিনি লুটিয়ে পড়েন এবং নাক ফেটে রক্তপাত শুরু হয়। এরপর ফাউজিয়া দাদির শরীরে থাকা সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার খুলে নাটোরে চলে যান।

তিনি জানান, নাটোরে একটি দোকানে ফাউজিয়া গয়না বিক্রি করে নতুন জামাকাপড় কেনেন এবং বাসে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্তে নামে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ডের সময় নিহত বৃদ্ধার ভাশুরের নাতনি ফাউজিয়া (শাহিনুজ্জামানের মেয়ে) বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন।

তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে গোয়েন্দা নিয়োগ করে পুলিশ। রবিবার রাতেই নাটোর শহরের হরিশপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ফাউজিয়া ও তার স্বামী মিনারুলকে আটক করা হয়। চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদে ফাউজিয়া স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়ার জন্য দাদিকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে কিছু গয়না জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফাউজিয়াকে আদালতে হাজির করলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর বিচারক নিজের খাসকামরায় অভিযুক্তের জবানবন্দি গ্রহণ করেন।