৩৫ বছর পর রাবিতে রাকসু নির্বাচন: উৎসবমুখর প্রচারণায় সরগরম ক্যাম্পাস

0
66

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাস এখন উৎসবমুখর। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, মেস ও আড্ডাস্থলগুলোতে প্রার্থীরা জোর প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, প্রার্থীরা ভোটগ্রহণের ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত (আগামী ১৪ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত) সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন।

ক্যাম্পাসের গেটসমূহ, একাডেমিক ভবনের গেটসমূহ, টুকিটাকি চত্বর, পরিবহণ চত্বর, প্যারিস রোড-সহ বিভিন্ন পয়েন্টে প্রার্থীরা লিফলেট ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করে শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চাইছেন। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আকর্ষণীয় ভিডিও আপলোড করে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দেখা গেছে।

শেখ নূর-উদ্দীন আবীর (ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম প্যানেলের ভিপি প্রার্থী): তাদের প্যানেলের বৈচিত্র্য নিয়ে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। বিশেষ করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা তাদের ভালোভাবে গ্রহণ করছেন, কারণ তাদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করতে এই প্যানেল আন্দোলন করেছিল।

ফাহিম রেজা (‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’র জিএস প্রার্থী): তিনি ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী আমলে যারা ভোট দিতে পারেননি, তাদের অনেকেই জীবনের প্রথম ভোট হিসেবে রাকসুতে ভোট দেবেন বলে জানান। এটি তাদের জন্য আনন্দের বিষয়।

ফুয়াদ রাতুল (বাম সমর্থিত গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদের ভিপি প্রার্থী): প্রচারণা শুরুর পর থেকেই তিনি এক অভাবনীয় উৎসবমুখর পরিবেশ দেখতে পাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা সাদরে লিফলেট গ্রহণ করছে এবং তাদের সংগ্রামকে মূল্যায়ন করবে বলেও আশ্বস্ত করছে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে গত রোববার রাত থেকে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ এবং মতিহার হলে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ, প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জানান, তল্লাশিতে দুই হলে মোট পাঁচজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী পাওয়া গেছে। তারা সবাই সংশ্লিষ্ট হলের ছাত্র হলেও সোমবারের মধ্যে তাদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোটগ্রহণের তারিখ: পুনির্বিন্যস্ত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গণনা শেষে সেদিনই ফল ঘোষণা করা হবে।

মোট ভোটার: রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন (নারী ভোটার ১১,৩০৫ জন এবং পুরুষ ভোটার ১৭,৫৯৬ জন)।

রাকসুতে ২৩টি পদের জন্য প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন ২৪৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে ১৬ জন প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন। মোট ১১টি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে।

সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫টি পদে ৫৮ জন প্রার্থী এবং হল সংসদ নির্বাচনে ১৫টি পদে মোট ১৭টি হলে ৬০০ জন প্রার্থী।