উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, শনিবার স্থানীয় সময় ‘ডে অব দ্য ডেড’ উৎসবের দিন মেক্সিকোর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোনোরা প্রদেশের হার্মোসিলো শহরে একটি ডিসকাউন্ট স্টোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। উৎসব উপলক্ষে মানুষজন যখন প্রয়াত প্রিয়জনদের স্মরণে নানা আয়োজন করছিলেন, ঠিক তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সোনোরা প্রদেশের গভর্নর আলফোনসো দুরাজো এক ভিডিও বার্তায় বলেন, “ঘটনার কারণ উদঘাটনে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অধিকাংশ মৃত্যুই হয়েছে বিষাক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে।
রাষ্ট্রীয় কৌঁসুলি গুস্তাভো সালাসও নিশ্চিত করেছেন যে, ফরেনসিক মেডিকেল সার্ভিসের প্রতিবেদনে বেশিরভাগ মৃতদেহে ধোঁয়াজনিত দমবন্ধ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সোনোরার রেড ক্রস জানায়, তাদের ৪০ কর্মী ও ১০টি অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধারকাজে অংশ নেয় এবং ছয় দফায় আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও বেশ কিছুক্ষণ দোকানটিতে ধোঁয়া ও তাপের কারণে ফায়ার সার্ভিসকে ভেতরে ঢুকতে বিলম্ব হয়।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সহায়তা পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে শহর কর্তৃপক্ষ বলেছে, ওয়ালডোস নামের ওই জনপ্রিয় ডিসকাউন্ট চেইন স্টোরটি কোনো ধরনের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল না।
হার্মোসিলো শহরের ফায়ার সার্ভিস প্রধান জানান, দোকানে আগুন লাগার আগে কোনো বিস্ফোরণ ঘটেছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, উৎসবের দিন এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা তাদের এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি।