গাজায় ত্রাণ আটকে দিচ্ছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ

0
55

ইসরায়েল গাজায় মানবিক ত্রাণ সরবরাহের আবেদন ক্রমাগত বাতিল করছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় ত্রাণ পাঠানোর মোট ১০৭টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। এসব ত্রাণের মধ্যে কম্বল, শীতকালীন পোশাক এবং পানি ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও রয়েছে।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক জানান, “আমাদের অংশীদার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কম্বল, শীতের পোশাক এবং পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ ত্রাণ প্রবেশের মোট ১০৭টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।” ইসরায়েলি অনুমতি না পাওয়ায় এই ত্রাণসামগ্রী এখনো আটকে আছে।

তিনি আরও জানান, প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশই ছিল ৩৩০টিরও বেশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে। ইসরায়েল এর অর্ধেকেরও বেশি আবেদন এই যুক্তিতে বাতিল করেছে যে, গাজায় ত্রাণ পাঠানোর জন্য সংস্থাগুলোর অনুমতি নেই।

জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ)-এর তথ্যের বরাত দিয়ে ফারহান হক আরও উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েলি সেনারা এখনো মোতায়েন থাকা এলাকায়, বিশেষ করে পূর্ব খান ইউনিস, পূর্ব গাজা সিটি ও রাফাহে প্রতিদিনই আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে।

তিনি তথাকথিত “ইয়েলো লাইন” সংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, এর ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সামরিক কর্মকাণ্ড বেসামরিক লোকজনসহ ত্রাণকর্মীদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

জাতিসংঘের মুখপাত্র এ সময় ইসরায়েলি সেনাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, সামরিক অভিযানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের দায়িত্ব।