বগুড়ায় আরডিএ’র নিয়োগ জালিয়াতি: রিমান্ডে দুই চাকরি প্রার্থী

ঘটনার মূল নায়কসহ জড়িতদের তথ্য পেয়েছে পুলিশ

0
35

বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর (আরডিএ) নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত মূল নায়কসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

শনিবার (৮ নভেম্বর) শেরপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রকিব হোসেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা, এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে গ্রেপ্তারকৃত দুই চাকরিপ্রার্থীর পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলেও আদালত ২৪ ঘণ্টার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এসআই মো. রকিব হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে এবং ঘটনার মূল হোতাসহ জড়িতদের তথ্য দিয়েছে তাঁরা। সেই তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের সঙ্গে আসা দুইজন এবং পরীক্ষার বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা একাধিক ব্যক্তি এই জালিয়াতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।

নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনায় সোমবার (২ নভেম্বর) আরডিএ’র উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মহিউদ্দিন বাদী হয়ে শেরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এর আগে, রোববার (১ নভেম্বর) নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে দুই চাকরি প্রার্থীকে সন্দেহজনক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন: ১. জিহান আফ্রিদি ব্রাইট (২২): জেলার ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের সাতবেকি গ্রামের বাসিন্দা। ২. মোছা. শাপলা বেগম (২৯): বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা (বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিমু মার্কেট এলাকায় বসবাস করেন)।

আরডিএ’র অফিস সহায়ক ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল রোববার (১ নভেম্বর)। লিখিত পরীক্ষায় দুই পদে মোট ২,২২৭ জন চাকরি প্রার্থী অংশ নেন, যার মধ্যে ১১৪ জন উত্তীর্ণ হন।

একই দিন বিকেলে আরডিএ’র মহাপরিচালকের কার্যালয়ে মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা চলছিল। এই সময় জিহান আফ্রিদি ও শাফলা বেগমের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় পরীক্ষার প্রশ্ন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষার খাতার সঙ্গে তাঁদের হাতের লেখার কোনো মিল না পাওয়ায় তাঁদের আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। এরপরই মূলত নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং তোলপাড় শুরু হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তাসহ আরও দুজনকে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা আটক করেছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে থানায় দায়ের করা মামলায় তাঁদের আসামি করা হয়নি, ফলে পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

তবে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা এই জালিয়াতির ঘটনায় ওই দুই ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁরা নিজেরাও পরীক্ষায় জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে স্বীকার করে ঘটনার সব তথ্য পুলিশকে দিয়েছেন।

শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দিন বলেন, “এই ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে এই নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াতির ঘটনায় যে বা যারাই জড়িত থাক-না কেন কেউ রেহাই পাবে না।”

আরডিএ’র মহাপরিচালক ড. এ. কে. এম. অলি উল্ল্যা বলেন, “জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া দুই চাকরিপ্রার্থীকে পুলিশে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এখন দায়িত্ব পুলিশের। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।