বরগুনার আমতলীতে এক নারীকে (৩৮) দুই দফায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও এর ভিডিও ধারণের অভিযোগে দুই সহোদরসহ তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান আসামি এখনো পলাতক থাকলেও দুই সহোদরকে গ্রেপ্তারের পর আদালত থেকে এক ভাই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, এবং অভিযুক্তদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা এমন গুরুতর অভিযোগে মামলা হওয়ায় হতবাক।
মামলার সূত্রে জানা যায়, আমতলীতে নিজ বাড়িতে গত ২৩ অক্টোবর প্রতিবেশী দুই চাচাতো ভাই সাইফুল ও ইমরান ওই নারীকে প্রথম দফায় ধর্ষণ করেন। এর ছয় দিন পর, ২৯ অক্টোবর দুপুরে প্রথমবার ধর্ষণকারী সাইফুল, তার চাচাতো ভাই ইমরান এবং ইমরানের আপন ছোটভাই আবারও ওই নারীর বাড়িতে যান।
অভিযোগে বলা হয়, নারীটি তখন রান্নায় ব্যস্ত ছিলেন। অভিযুক্তরা তার কাছে খাবার পানি চাইলে তিনি পানি আনতে ঘরের ভিতরে যান। এ সময় তারা তিনজনও ঘরের ভিতরে প্রবেশ করেন। সেখানে প্রথমে ইমরান ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। এরপর পালাক্রমে সাইফুল তাকে ধর্ষণ করে। এই পুরো ঘটনাটি ইমরানের ছোট ভাই মুঠোফোনে ভিডিও করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
৩১ অক্টোবর আমতলী থানায় ওই নারী অভিযুক্ত তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দায়ের করেন।
বাদী ও স্বজনদের বক্তব্য: ভুক্তভোগী নারীর বড় ভাই রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আমরা লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে ঘটনাটি কাউকে জানাতে চাইনি। কিন্তু, দ্বিতীয়বার ধর্ষণের পর বাধ্য হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছি। আমরা অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “আমরা আতঙ্কে আছি। আমার মেয়ের সাথে খুব খারাপ হয়েছে। এখন কাউকে মুখ দেখাতে পারছি না।”
মামলার পর ৩১ অক্টোবর রাতে মামলার ২ নম্বর আসামি ইমরান নিজেই আমতলী থানায় গিয়ে ঘটনা মিথ্যা দাবি করেন। তাকে সেই রাতেই থানায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ৫ নভেম্বর আদালত থেকে তিনি জামিনে বের হন।
তার আগের দিন মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম থেকে ইমরানের ছোট ভাই ও মামলার ৩ নম্বর আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। প্রধান আসামি সাইফুল এখনো পলাতক।
আসামিদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তিন ভাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। সাইফুলের বড় ভাই শামীম বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আমাদের মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আদালত থেকে আমরা ন্যায়বিচার পাব।”
অভিযুক্ত ইমরানের মা দাবি করেন, ঘটনার উল্লেখিত সময়ে তার বড় ছেলে ইমরান কলাপাড়া বাজারে একটি সেলুনে চুল কাটছিলেন, যার প্রমাণ তাদের কাছে আছে। সেই প্রমাণ আদালতে দাখিল করার পরই ইমরানের জামিন মঞ্জুর হয়।
এদিকে, দুই সহোদরসহ তিন ভাই একত্রে ধর্ষণ করেছেন—এমন অভিযোগে মামলা হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীও হতবাক। স্থানীয় মজিবুর রহমান, জালাল খান, বাবুল হাওলাদারসহ কয়েকজন বলেন, “তিন ভাই মিলে কীভাবে ধর্ষণ করে, আমরা এটা বিশ্বাস করি না। বড় ভাই খারাপ কাজ করলে ১৭ বছরের ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে যায় না। আমরা এই ঘটনায় সঠিক তদন্ত চাই।”
নির্যাতনের শিকার নারীর প্রতিবেশী হরিপদ গাইনও ঘটনাটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “তিনি একদিন ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরও তার কাছে ছয় দিন পর যখন গেল আর পানি খেতে চাইল, তখন সে ধর্ষকদের জন্য পানি আনতে ঘরের ভিতর কেন যাবে? সে তো ধর্ষকদের দেখার সাথে সাথে প্রতিবেশীদের ঘরে যাবে অথবা চিৎকার দিবে।”
এ ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান। তিনি বলেন, “মামলা দায়ের করার সাথে সাথে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একজন পলাতক আছে, তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
বাদীর পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি নজরে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খান।