বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, তার দল আগামীতে ক্ষমতায় গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাংবাদিকদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেবে। একইসঙ্গে তিনি রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং জামায়াত দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেছেন।
সোমবার (১০ অক্টোবর) রাতে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে জেলার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের সমস্যা সমাধানে প্রতিশ্রুতি: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বীকার করেন যে, দেশের সাংবাদিকরা নানা সমস্যায় ভুগছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে সেগুলো পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন: “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাদের কলমের মাধ্যমেই দেশের সত্য প্রকাশিত হয়। তাই সাংবাদিকদের সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। বিএনপি যদি আগামীতে ক্ষমতায় যেতে পারে, তাহলে সাংবাদিক সমাজের ন্যায্য দাবি ও সমস্যাগুলো সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “আপনাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে যেন কোনো বাধা না আসে, সে বিষয়ে আমি সব সময় সচেষ্ট ছিলাম। ভবিষ্যতেও আপনাদের সঙ্গে থেকে কাজ করতে চাই।”
জামায়াতকে নিয়ে মন্তব্য ও অবসরের ইঙ্গিত: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জামায়াত দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ের ইঙ্গিত দেন। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের কাছে ধানের শীষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, “যদি ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ আমাকে আবারও ধানের শীষে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন, তাহলে হয়তো জীবনে শেষবারের মতো জনগণের সেবা করার সুযোগ পাবো।”
তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেক মানুষের জীবনে যেমন অবসরের সময় আসে, রাজনীতিতেও সেটি থাকা উচিত। আমি ইনশাআল্লাহ সেভাবেই ব্যবস্থা নেব। তবে তার আগে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ ও দেশের গণতন্ত্রের জন্য যতটা সম্ভব কাজ করে যেতে চাই।”
এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ জামিন সরকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানু প্রমুখ।