অবিশ্বাস্য এক ক্যাচে শেষ হলো ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস। কেশব মহারাজের বলে বাউন্ডারি মারতে লফট করেছিলেন মোহাম্মদ সিরাজ। কিন্তু মিড-অন থেকে ছুটে এসে ডাইভ দিয়ে সেই ক্যাচ ধরেন মার্কো জানসেন। মাটিতে পড়ে গেলেও বল হাতছাড়া করেননি তিনি। এই দৃশ্য দেখে মাঠেই হতবাক অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা ও সতীর্থরা। এই ক্যাচের মাধ্যমেই ভারত অলআউট হয় মাত্র ১৪০ রানে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ জেতে বিশাল ৪০৮ রানে—যা ভারতের মাটিতে তাদের সবচেয়ে বড় জয়।
এ জয়ের মধ্য দিয়ে টানা দুই টেস্টে জয় তুলে নিয়ে ভারতকে ২–০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের ঘরের মাঠে এটি তাদের দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ জয়। ২০০০ সালে হ্যান্সি ক্রনিয়ের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো এমন কীর্তি গড়েছিল প্রোটিয়ারা। দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও সেই ইতিহাস পুনর্লিখন করল বাভুমার দল।
৫৪৯ রানের শুন্য-সম্ভব লক্ষ্য তাড়া না করে ড্র-ই ছিল ভারতের প্রধান লক্ষ্য। ২৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেছিল তারা। কিন্তু প্রথম সেশনেই স্পিনার সিমন হারমার ম্যাচের রূপ পাল্টে দেন। এক ওভারেই ফেরান কুলদীপ যাদব ও ধ্রুব জুরেলকে। এরপর ঋশাভ পান্তকেও আউট করে ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন পুরোপুরি।
সাই সুদর্শন ও রবীন্দ্র জাদেজার লড়াই কিছুটা আশা জাগালেও দ্বিতীয় সেশনে সেই জুটি ভাঙে। সেনুরান মুথুসামির বলে এজ হয়ে সুদর্শন ক্যাচ দেন এইডেন মারক্রামকে।
জাদেজা চেষ্টা চালালেও সঙ্গী পাননি। ওয়াশিংটন সুন্দরকে হারমারের বলে আউট করিয়ে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ৯ ক্যাচ নেওয়ার বিশ্ব রেকর্ড গড়েন মারক্রাম—২০১৫ সালে আজিঙ্কা রাহানের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে।
হারমার এরপর নেন নিতিশ রেড্ডির উইকেট। লড়াই চালিয়ে ৫৪ রান করা জাদেজাকেও ফিরিয়ে দেন কেশব মহারাজ। একই ওভারে শেষ ব্যাটসম্যান সিরাজকে আউট করে ইনিংস গুটিয়ে দেন তিনি।
পুরো ম্যাচে হারমার নেন ৯ উইকেট—শুধু দ্বিতীয় ইনিংসেই ৩৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট। তার দাপুটে স্পিন, মারক্রামের রেকর্ডগড়া ক্যাচ আর জানসেনের ‘অবিশ্বাস্য’ ডাইভিং ক্যাচ—সব মিলিয়ে একতরফা ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।