৭২ বাংলাদেশিসহ ৪০২ অবৈধ অভিবাসী আটক করেছে মালয়েশিয়া

0
62

মালয়েশিয়ার দুই রাজ্যে পরিচালিত পৃথক সাঁড়াশি অভিযানে ৭২ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৪০২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, জোহর রাজ্যের জোহর বাহরুর তেব্রাউ শিল্প এলাকায় অবস্থিত একটি কম্পিউটার যন্ত্রাংশ কারখানায় ‘অপস মাহির’ অভিযানের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে ৩৫৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়া এই অভিযান পরিচালিত হয় পরিকল্পিতভাবে অবৈধ শ্রমিক নিয়োগের তথ্যের ভিত্তিতে।

জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস জানান, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থার (একেপিএস) সহযোগিতায় জোহর ইমিগ্রেশনের এনফোর্সমেন্ট শাখা অভিযানটি পরিচালনা করে।

অভিযানে দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক বিদেশি বৈধ ভ্রমণ নথি ও কর্মপারমিট ছাড়াই কারখানাটিতে কাজ করছিলেন।

তিনি আরও বলেন, অভিযানের সময় কয়েকজন বিদেশি পালানোর চেষ্টা করলেও সব বহির্গমন পথ বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তদন্তে সহায়তার জন্য কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের দুজন স্থানীয় পুরুষ কর্মীকেও আটক করা হয়েছে।

যাচাইয়ে দেখা যায়, আটককৃতদের মধ্যে ২৯৯ জন মিয়ানমারের নাগরিক, ২৬ জন বাংলাদেশি, ২২ জন ভারতীয়, তিনজন ইন্দোনেশীয়, দুজন নেপালি এবং একজন করে পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের নাগরিক রয়েছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে।

দাতুক মোহদ রুসদি জানান, কারখানাটিতে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের সুসংগঠিত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আটক সবাইকে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ ও ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩-এর আওতায় সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যের নিলাই এলাকায় একটি লৌহ কারখানায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে ৪৬ জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।

রাজ্য ইমিগ্রেশন পরিচালক কেনিথ তান আই কিয়াং জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পরিচালিত অভিযানে ২৬ জন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা অংশ নেন। এ সময় মোট ১১৭ জন বিদেশিকে যাচাই-বাছাই করা হয় এবং তাদের মধ্যে ১৮ থেকে ৪৩ বছর বয়সি ৪৬ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন অভিবাসন অপরাধে আটক করা হয়।

অভিযানে সেরেমবান সিটি কাউন্সিলের ১৯ জন সদস্য এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১১ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পাস ও ভ্রমণ নথি না থাকা এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানের অভিযোগ রয়েছে। তাদের লেংগেং ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগকারী মালিকপক্ষের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৫ই(১) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।