৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

0
1
৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে আদ্‌-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার হাসপাতালটির নির্বাহী পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী শেখ মহিউদ্দীনকে পাঠানো এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

যেসব রোগী এই মুহূর্তে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন, লাইসেন্স বাতিলের পর এখন তারা কী করবেন—এই প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘লাইসেন্সবিহীন হাসপাতালে কোনো রোগীর চিকিৎসা নিতে যাওয়া উচিত নয়। যারা চিকিৎসা নিচ্ছেন, আমরা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি সেসব রোগীদের যেন নিকটতম উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তাদের যদি কোনো সহায়তা দরকার হয়, তারা যেন তা আমাদের জানায়৷’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবুল হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালে এক ওডার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত এক তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে এ মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না, এ মর্মে একটি শোকজ নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নোটিশের জবাব দিতে তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হলেও আরও ৪৮ ঘণ্টার সময় চেয়ে আবেদন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে গত ৯ জুন শোকজ নোটিশের লিখিত জবাব দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে জবাববে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, 1982 এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হইল।

তবে অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আদেশে।

এর আগে ছয় শিশুর মৃত্যু নিয়ে গতকাল বুধবার (১০ জুন) আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্–দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানাতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ মহিউদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। এ জন্য তাকে ৭ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা সময় দেয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে এই নোটিশ দেয়া হয়।

এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলার’ প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি; দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা; বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ।

গত ৪ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। সেদিনই বিকালে হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তিন দিনের মধ্যে তা জানাতে বলা হয় নোটিশে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বুধবার বলেছিলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিসের যে জবাব দিয়েছে তা ‘সন্তোষজনক নয়’।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির রোববার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।

পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনায় এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রত্যেক পরিবারকে ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here