আসিয়ান বৈঠকের মধ্যেই থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে ফের ভয়াবহ সংঘর্ষ

0
35

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের শীর্ষ কূটনীতিকরা যখন মালয়েশিয়ায় সংকট নিরসনে আলোচনায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্তে নতুন করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ভোর থেকে দুই দেশের সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে ফের বড় ধরনের সংঘাত ও গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে।

কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘এজেন্সি কাম্পুচিয়া প্রেস’ (একেপি)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী বানতেয় মিয়ানচে প্রদেশে থাই বিমানবাহিনী এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে অন্তত চারটি বোমা ফেলেছে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, থাই সামরিক বাহিনী বিকেলে বাটামবাং প্রদেশের বেসামরিক জনবহুল এলাকা লক্ষ্য করে ৪০টিরও বেশি কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছে।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, ব্যাপক বোমাবর্ষণের মুখে সাধারণ মানুষ ও শিশুরা প্রাণভয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে। কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের কার্যালয় জানিয়েছে, সীমান্ত উত্তেজনার জেরে তাদের অংশে প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে প্রায় ৪ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিয়েছে।

সীমান্ত নিয়ে এই বিরোধ ও উত্তেজনা এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসানের সভাপতিত্বে আসিয়ানের বিশেষ বৈঠক চলছে। বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও সীমান্তে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট তথ্য ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষকে ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিং আলাদাভাবে কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও এখন পর্যন্ত সীমান্তে শান্তি ফেরাতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

সূত্র: আলজাজিরা।