মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এতে খাতিয়াল গ্রামে ১৩টি বসতঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সংঘর্ষে খাতিয়াল এলাকার আব্বাস চৌধুরী (৪৭) গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন সমর্থক আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল গ্রামে ঘটে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, খাতিয়াল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আবুল জমাদ্দারের সঙ্গে আব্বাস চৌধুরীর পক্ষের বিরোধ চলছিল। এর জেরে এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে আব্বাস চৌধুরীকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে গুরুতর জখম করে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এক পর্যায়ে বুধবার বিকেলে আব্বাস চৌধুরীর পক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আবুল জমাদ্দারের বাড়িসহ তাদের লোকজনের বসতঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট ও ভাঙচুর করে এবং পরে ঘরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। আগুনে ১৩টি বসতঘর পুড়ে যায়। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সংঘাত থামান।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বেল্লাল জমাদ্দার বলেন, হামলার সময় তারা কিছুই সরাতে পারেননি, সব পুড়ে গেছে। তাদের বংশের ১৩টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা বলে তিনি দাবি করেন। তিনি হামলার বিচার চান।
ডাসার থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আলাদা-আলাদা চারটি মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাবুল জমাদ্দারসহ মো. সাইদুল ও কাজল মোল্লা নামে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলেও জানান তিনি।