পারমাণবিক পরীক্ষা নিয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিং নতুন উত্তেজনা

0
30
পারমাণবিক পরীক্ষা নিয়ে ওয়াশিংটন-বেইজিং নতুন উত্তেজনা

চীন গোপনে পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে ‘একেবারে মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করে চীন বলেছে, নিজেদের পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় শুরুর অজুহাত তৈরির লক্ষ্যেই ওয়াশিংটন এই অভিযোগ তুলেছে।

সোমবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ নাকচ করা হয়। এর আগে, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি টমাস ডিন্যানো চীনের বিরুদ্ধে পারমাণবিক বিস্ফোরকের পরীক্ষা চালানোর অভিযোগ তোলেন।

টমাস ডিন্যানো বলেন, চীন পারমাণবিক বিস্ফোরকের একাধিক পরীক্ষা চালিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র অবগত। তিনি বিশেষভাবে ২০২০ সালের ২২ জুনে একটি পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেন। তার দাবি, এসব পরীক্ষার প্রস্তুতিতে শত শত টন বিস্ফোরণ ক্ষমতাসম্পন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মার্কিন এই কর্মকর্তা আরও বলেন, চীন ওই পরীক্ষার সময় ‘ডিকাপলিং’ নামের একটি কৌশল ব্যবহার করেছে, যাতে ভূ-কম্পন মাপক যন্ত্রে বিস্ফোরণের প্রভাব শনাক্ত না হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই পদ্ধতির মাধ্যমে পারমাণবিক পরীক্ষার তথ্য গোপন রাখা সম্ভব হয়েছে।

তবে সোমবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং নির্জলা মিথ্যা। বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটন নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার পথ সুগম করতেই চীনের বিরুদ্ধে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন অভিযোগ তুলছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবিলম্বে দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। চীন স্পষ্ট করে জানায়, তারা সবসময় পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।

গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ‘সমতার ভিত্তিতে’ পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা পুনরায় শুরু করতে পারে ওয়াশিংটন। তবে কী ধরনের পারমাণবিক পরীক্ষা চালু করা হবে, সে বিষয়ে তিনি তখন কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

ডিন্যানোর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার আহ্বান জানিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর নতুন সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব উত্থাপন করছে। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ সম্প্রতি শেষ হয়েছে।

এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে এই প্রথম বিশ্বের প্রধান দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ কৌশলগত পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যত কোনো বাধার মুখে নেই। এরই মধ্যে চীন জানিয়েছে, ‘এই পর্যায়ে’ তারা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নেবে না।

সূত্র: এএফপি, রয়টার্স।