২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলা এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ার জটিলতার মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিচার ও আপিল চলতে থাকায় আসামি ও নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারগুলোকে ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এরই মধ্যে মামলায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় সম্পূরক চার্জশিটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
পিলখানা ট্র্যাজেডিতে সেনাবাহিনীর ৫৭ জন কর্মকর্তা নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরে হাইকোর্ট ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ২৮৩ জনকে খালাস দেওয়া হয়। মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারাধীন।
এদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় নতুন করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ তৎকালীন কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উচ্চপদস্থ নেতাদের নাম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী এ ধরনের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আইনজীবী পারভেজ হোসাইন বলেন, হত্যা মামলায় যারা খালাস পেয়েছেন, বিস্ফোরক মামলায় একই আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকায় তারা এখনো জামিন পাননি। এতে আইনি জটিলতা আরও বেড়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর হতাশা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রসিকিউশনের দাবি, নতুন সম্পূরক চার্জশিট বিচার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনবে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।