বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু ফ্রান্সের হার বা ইংল্যান্ডের জয়ের গল্প নয়; ম্যাচটি ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে একাধিক ব্যক্তিগত রেকর্ডের কারণে। কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল অলিসে ও জুড বেলিংহ্যামের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ভেঙেছে কয়েক দশক ধরে অটুট থাকা বিশ্বকাপের একাধিক রেকর্ড।
সবচেয়ে বড় অর্জনটি এসেছে ফ্রান্সের তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পের হাত ধরে। ম্যাচে গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে উঠে গেছেন। একই সঙ্গে ১৯৭০ বিশ্বকাপে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের গড়া এক আসরে সর্বোচ্চ গোল-অবদানের (গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে) রেকর্ডও ভেঙে দেন এমবাপ্পে। ৫৬ বছর ধরে অক্ষত থাকা সেই রেকর্ড অবশেষে নতুন মালিক পেল।
এই গোলের মাধ্যমে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও এগিয়ে গেলেন এমবাপে। ফলে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ স্বপ্ন-বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট-এবারও অধরাই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এমবাপে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের নাম উঁচুতে তুলে নেন আরও। অধিনায়ক এমবাপে ওলটপালট করে দেন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের ইতিহাস। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে লিওনেল মেসিকে টপকে এককভাবে এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
জোড়া গোলে মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে বসলেন এমবাপে (২২ গোল)। একই সঙ্গে চলমান বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও মেসিকে (৮ গোল) টপকে গেলেন তিনি। টুর্নামেন্টে এমবাপের গোলসংখ্যা এখন ১০!
ফ্রান্সের আরেক তারকা মাইকেল অলিসেও ইতিহাস গড়েছেন। ম্যাচে অ্যাসিস্ট করে তিনি ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের গড়া এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভেঙেছেন। প্রায় ৬৮ বছর পর বিশ্বকাপে নতুন অ্যাসিস্ট-রাজা পেল ফুটবল বিশ্ব।
অন্যদিকে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে করা গোলটি তাকে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করা মিডফিল্ডারের মর্যাদা এনে দিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি এক আসরে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করার নতুন রেকর্ডও গড়েছেন।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে গোলবন্যার ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ সাধারণত আলোচনার কেন্দ্রে থাকে না। তবে এবারের ম্যাচটি হয়ে থাকবে ব্যতিক্রম। কারণ একটি ম্যাচেই বদলে গেছে বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ের একাধিক পাতা।