আওয়ামী লীগ অতীতে যেভাবে বিরোধী দলগুলোকে কোণঠাসা করেছিল, বর্তমান সরকারও সেই পথেই হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশে নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্রের উত্থান হতে দেওয়া হবে না। স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে তাদের জীবনের ওপর দিয়েই করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের ইতিহাসে সংকটের সময়ে ছাত্রসমাজই বারবার রাষ্ট্র ও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিটি গণআন্দোলনে সামনের সারিতে ছিল। তবে আন্দোলনের পর রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্রসমাজের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়নি। একই চিত্র ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরও দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে নাহিদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিচার কার্যক্রমে বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপের খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং স্বেচ্ছায় সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এতে বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, মব সৃষ্টি করে আগের গভর্নরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একজন ঋণখেলাপি ও একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণ বিএনপির বিপক্ষে ভোট দিলেও নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়া হয়েছে। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ন্ত্রণে রেখে আইন ও বিচার ব্যবস্থা নিজেদের অনুকূলে সাজানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগ যেভাবে বিরোধী দলগুলোকে কোণঠাসা করেছিল, বর্তমান সরকারও সেই পথে এগোচ্ছে। তবে নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।