খামেনির পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন?

0
28
খামেনির পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন?

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির পরবর্তী শীর্ষ নেতা কে হবেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরানের শাসনভার কার হাতে যাবে, তা নিয়ে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সম্ভাব্য পাঁচজন শক্তিশালী প্রার্থীর নাম।

মোজতাবা খামেনি: আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ৫৬ বছর বয়সী দ্বিতীয় পুত্র মোজতাবা খামেনি এই দৌড়ে বেশ আলোচনায় আছেন। দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) এবং আধাসামরিক ‘বাসিজ’ বাহিনীর ওপর তার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তবে ইরানের শিয়া শাসনব্যবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতা হস্তান্তরের রীতিকে খুব একটা ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না। এছাড়া উচ্চ পর্যায়ের ইসলামি পণ্ডিত হিসেবে তার পরিচিতি কম এবং সরকারে তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদ নেই।

আলীরেজা আরাফি: ৬৭ বছর বয়সী আলীরেজা আরাফি সরাসরি রাজনীতিতে খুব একটা পরিচিত না হলেও খামেনির অত্যন্ত আস্থাভাজন। তিনি বর্তমানে ইরানের আলেমদের পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান এবং ক্ষমতাশালী ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’-এর সদস্য। দেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার গভীর সখ্য না থাকাটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি: ৬০ বছর বয়সী এই কট্টরপন্থি আলেম ইরানের রক্ষণশীল আলেম-উলামাদের অত্যন্ত প্রিয়। মিরবাঘেরি তীব্র পাশ্চাত্য-বিরোধী হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমানে কোম শহরের বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিশ্বাসী মুসলিম ও অবিশ্বাসীদের মধ্যে সংঘাত অনিবার্য। তার এই কঠোর অবস্থান তাকে কট্টরপন্থিদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

হাসান খোমেনি: ইরানের ইসলামি বিপ্লবের স্থপতি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ৫০ বছর বয়সী নাতি হাসান খোমেনিও আলোচনায় আছেন। বর্তমানে খোমেনির সমাধিসৌধের প্রধান রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা অন্যদের তুলনায় কিছুটা নমনীয় মনোভাবের। তবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সামরিক বাহিনীর ওপর প্রভাব কম থাকায় তার পথ কিছুটা কঠিন হতে পারে।

হাশেম হোসেইনি বুশেহরি: ষাটোর্ধ্ব এই জ্যেষ্ঠ ইসলামি পণ্ডিত ইরানের আলেম পরিষদের এক নম্বর উপ-চেয়ারম্যান। খামেনির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তার সংযোগ তেমন জোরালো নয়। তবে উত্তরাধিকার ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাকে একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্র : সিএনএন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here