রাজধানীতে কঙ্কাল পাচারকারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, ৪৭টি মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার

0
21
রাজধানীতে কঙ্কাল পাচারকারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, ৪৭টি মাথার খুলি ও হাড় উদ্ধার

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানব কঙ্কাল সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ ইবনে মিজান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক (২৫), মো. আবুল কালাম (৩৯), আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ (৩২) এবং মো. ফয়সাল আহম্মেদ (২৬)। তাদের কাছ থেকে ৪৭টি মাথার খুলিসহ মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড় উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিসি মোহাম্মদ ইবনে মিজান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ মার্চ রাতে তেজগাঁও থানার একটি দল মনিপুরী পাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যে তেজগাঁও কলেজের সামনে থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছেও কঙ্কাল পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অবস্থিত সাপুরা ডেন্টাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের একটি হোস্টেলে আরও কঙ্কাল মজুত থাকার তথ্য দেয়। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে হোস্টেলের ৪০২ নম্বর রুম থেকে বিভিন্ন ব্যাগ ও বস্তায় রাখা আরও ৪৪টি মানব কঙ্কাল ও হাড় উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, চক্রটির মূলহোতা ফয়সাল আহম্মেদ অনলাইনে ‘বোম সেলিং’ নামে একটি গ্রুপের মাধ্যমে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করত। গ্রুপটিতে প্রায় ৭০০ কর্মী এবং ২০ হাজার সদস্য রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী।

ডিসি আরও জানান, গ্রেপ্তার আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ২১টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ২০০৯ সালে কবর থেকে সন্তান চুরির মামলাও অন্তর্ভুক্ত। আসাদুল মুন্সীর বিরুদ্ধেও ডাকাতির প্রস্তুতি ও চুরির দুটি মামলা রয়েছে। চক্রটি মূলত গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর ও জামালপুর এলাকার অরক্ষিত কবরস্থানগুলো থেকে ১ বছর পুরনো লাশ তুলে কেমিক্যাল প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে কঙ্কাল তৈরি করে ৬-৮ হাজার টাকায় কিনত এবং ১৫-২০ হাজার টাকায় মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করত।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রের অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here