হরমুজ পারাপারে রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশের জন্য ফি তুলে দিলো ইরান

0
18
হরমুজ পারাপারে রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশের জন্য ফি তুলে দিলো ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জন্য ফি বা মাশুল মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তি এই খবর জানিয়েছে।

মস্কোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য ইরান এই বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও ভবিষ্যতের পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে সে সম্পর্কে তিনি এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলেননি, তবে বর্তমানে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলো যাতে কোনো বাধা বা অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি সংবাদ মাধ্যমটিকে আরও জানিয়েছেন, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে এই বিশেষ ছাড়ের আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি তদারকি করছে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি রাশিয়ার নাম উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়ার মতো বন্ধুরাষ্ট্রগুলো যেন হরমুজ প্রণালি দিয়ে তাদের বাণিজ্যিক ও অন্যান্য জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এই সুবিধা পায়, সে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটের মাঝে তেহরানের এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশের প্রধান রুট হিসেবে পরিচিত। এই পথে জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা মাশুল আরোপের মাধ্যমে ইরান প্রায়শই বিশ্ব বাজারে তার প্রভাব জাহির করে থাকে।

বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যখন ইরানের ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা চলছে, তখন রাশিয়া বা অন্যান্য মিত্র দেশের জন্য এই ফি মওকুফের সিদ্ধান্ত মূলত একটি পাল্টা কূটনৈতিক চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইরান তার মিত্র বলয়কে আরও শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমিয়ে আনতে চাইছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে এই একতরফা মাশুল মওকুফের ঘোষণা পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কারণ এর ফলে প্রণালিটির ওপর ইরানের একক কর্তৃত্ব আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

বিশেষ করে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ওই অঞ্চলে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে, সেখানে ইরান কার কাছ থেকে মাশুল নেবে আর কাকে ছাড় দেবে, সেটি নির্ধারণের মাধ্যমে জলপথটিতে নিজের সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত আধিপত্য নতুন করে জানান দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয় হলো, মিত্র দেশগুলোর বাইরে অন্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য ইরান ভবিষ্যতে কী ধরনের কঠোর নীতি গ্রহণ করে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here