রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বর্তমানে ফেনসিডিলের পরিবর্তে ‘এস্কাফ’ নামক একটি সিরাপের পাচার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের মতে, এটিও ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত একটি মাদক, যা মূলত ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গত তিন মাসে সীমান্তে ফেনসিডিলের সরবরাহ কমে গেলেও এই নতুন মাদকের অনুপ্রবেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সর্বশেষ গতকাল শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সারইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি প্রাইভেট কার থেকে ২১৫ বোতল এস্কাফ উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকার খিলগাঁওয়ের তুহিন ফকির (২৬) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. সিয়াম (২৫) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জব্দকৃত সিরাপের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা। এছাড়া গত শুক্রবার রাতেও দামকুড়া থানা পুলিশ একটি পিকআপ থেকে ২০০ বোতল এস্কাফসহ জুয়েল হক নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, সীমান্তের ওপারে ভারতের অনেক ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাদক কারবারিরা এখন কৌশল বদলে ‘এস্কাফ’ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকেছে। গত ১ মার্চ ভারতের মালদাতেও প্রায় ২৯ হাজার বোতল এস্কাফ জব্দ করা হয়েছিল, যা বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, গত কয়েক মাস ধরে সীমান্তে ফেনসিডিলের দেখা মিলছে না বললেই চলে, পরিবর্তে ধরা পড়ছে এস্কাফ। তবে এটিও উচ্চমাত্রার মাদক হওয়ায় এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।