শেরপুর শহরের গোয়ালপট্টি এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে আবাসিক ভবনে ১৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুত রাখার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে ওই ভবনে তেল বিক্রি স্থায়ীভাবে বন্ধ ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মজুত তেল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মধ্যরাতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মো. মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে মেসার্স শিমলা ট্রেডার্সে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির মালিক তাপস নন্দীকে পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬-এর ২০ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জানা গেছে, তাপস নন্দী ও শফিকুল ইসলাম হেলালের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে প্রান্তিক কৃষক ও দোকানদারদের কাছে ডিজেল ও কেরোসিন বিক্রি করে আসছিল। তাদের খুচরা তেল বিক্রির লাইসেন্স থাকলেও পরবর্তীতে আবাসিক ভবনের নিচতলায় প্রায় ২৭ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি বড় ট্যাংক নির্মাণ করে অবৈধভাবে তেল মজুত করা হয়। অভিযানকালে সেখানে প্রায় ১৮ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। এছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও তাদের কাছে ছিল না।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুতের প্রমাণ মেলায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মজুত তেল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার, জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সেলিম রেজা এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে ব্যবসায়ী তাপস নন্দী ও শফিকুল ইসলাম হেলালের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।