জনগণ রাজপথে নামলে রক্ষা পাওয়া যাবে না: আজহারুল ইসলাম

0
7
জনগণ রাজপথে নামলে রক্ষা পাওয়া যাবে না: আজহারুল ইসলাম

দলীয় পেটুয়া বাহিনী দিয়ে জনগণকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয় উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় নয় বরং ক্ষমতায় টিকে থাকতে জনসমর্থন প্রয়োজন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও জনগণের বিপক্ষে গিয়ে আওয়ামী লীগ টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমান সরকারও যদি গণভোটের রায় মেনে না নেয়, তবে রাজপথে নামা জনগণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে আন্দোলনের মুখে বিএনপি যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার মানতে বাধ্য হয়েছিল, তেমনি আন্দোলনের মুখে এবারও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে তারা বাধ্য হবে। জাগপা মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানের বাসায় ‘মব’ সৃষ্টির কঠোর সমালোচনা করে তিনি দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গণতন্ত্রের পরিবর্তে দেশে ‘জিয়াতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করা হয়েছে। জ্বালানি সংকটে মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটের রায় ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত না করলে বাঙ্কারে ঢুকেও রেহাই মিলবে না।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বর্তমান সরকারকে ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, সরকারের আচরণে মনে হচ্ছে না ৫ আগস্ট কোনো পরিবর্তন হয়েছে। খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী বলেন, যারা জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করে নব্য ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তারা হাসিনা সরকারের মতোই পালানোর সময় পাবে না। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইযহার এবং লেবার পার্টির মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলামও সরকারের কর্মকাণ্ডকে ফ্যাসিবাদী ঘরানার বলে সমালোচনা করেন।

জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না এবং কৃত্রিম জ্বালানি সংকট তৈরি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে নতুন করে ‘হাওয়া ভবন’ তৈরি হয়েছে। এছাড়া সমাবেশে এলডিপি, বিডিপি এবং খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতারাও সরকারের জনবিরোধী অবস্থানের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

বিক্ষোভ সমাবেশ পরিচালনা করেন ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি। সমাবেশ শেষে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির আহ্বানে একটি বিশাল গণমিছিল বিজয়নগর থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার ছাত্র-জনতা অংশগ্রহণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here