কুমিল্লা নগরে আপন ভাতিজিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে কাজী মোজাম্মেল হক রিফাত (৩২) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার (৫ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুল হান্নান এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিফাত আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কাইমুল হক রিংকু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাজাপ্রাপ্ত কাজী মোজাম্মেল হক রিফাত কুমিল্লা নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গাংচর মোগলটুলি এলাকার কে এম স্বপনের ছেলে।
আদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। তাঁর মা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কর্মচারী এবং বাবা পেশায় একজন রংমিস্ত্রি। ২০২০ সালের ১০ আগস্ট প্রতিদিনের মতো কিশোরীর বাবা-মা তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যান। এই সুযোগে সম্পর্কে কিশোরীর চাচা কাজী মোজাম্মেল হক রিফাত ঘরে প্রবেশ করে কিশোরীকে জোরপূর্বক প্রথমবার ধর্ষণ করে। এরপর ধর্ষণের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।
একপর্যায়ে কিশোরী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনাটি তাঁর মায়ের কাছে প্রকাশ করে। পরে ২০২০ সালের ১ অক্টোবর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রিফাতকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ২৮ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হারুনুর রশিদ আদালতে রিফাতকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতে একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, ভুক্তভোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনা অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন। রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে কড়া পাহারায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।