জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় কালের কণ্ঠের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি ইবাদ হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাকরিচ্যুত এক নির্বাচন কমিশন কর্মচারী মোবাইল ফোনে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যা করার হুমকি দেন বলে ওই সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে নেত্রকোনা সদর থানায় লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন সাংবাদিক ইবাদ হোসেন।
মঙ্গলবার দুপুরে নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন তিন কর্মচারীর চাকরিচ্যুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জালিয়াতির সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। চাকরিচ্যুত কর্মচারীরা হলেন—কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া ও আরিফ মিয়া এবং স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরা। তাদের মধ্যে অভিযোগকারী সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া কাঞ্চন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার খতিবনগুয়া এলাকার আনিস মিয়ার ছেলে।
থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি কালের কণ্ঠে ‘টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিচ্ছে রোহিঙ্গারা’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসের ওই তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চাকরি হারানোর ক্ষোভ থেকে সোমবার সন্ধ্যায় কাঞ্চন মিয়া সাংবাদিক ইবাদ হোসেনের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করেন। এ সময় তিনি প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণেই তার চাকরি গেছে দাবি করে সাংবাদিককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক ইবাদ হোসেন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে কাঞ্চন মিয়া তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং তার সংবাদের কারণেই চাকরি গেছে বলে দাবি করেন। বিষয়টি তিনি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এদিকে অভিযুক্ত কাঞ্চন মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও হুমকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।