রাশিয়ার সঙ্গে সাড়ে চার বছরের যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠানোর কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
মঙ্গলবার তিনি বলেন, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মস্কোর ওপর চাপ বাড়িয়ে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রস্তুতি নিতে বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তবে নতুন প্রস্তাবে কী কী বিষয় রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি জেলেনস্কি।
এদিকে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল। জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়া আগামী মাসের সংসদীয় নির্বাচনকে নতুন করে সেনা সমাবেশের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সর্বশেষ জানুয়ারিতে মস্কো সফর করলেও এখনো কিয়েভ সফর করেননি।
আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রস্তাব সম্পর্কে জেলেনস্কি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
২০২২ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধের আলোচনা মূলত থমকে গেছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে। মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সর্বশেষ জানুয়ারিতে মস্কো সফর করেছেন এবং এখনো কিয়েভ সফর করেননি।
বছরের পর বছর ধরে চলা লড়াইয়ে ইউক্রেন বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। রাশিয়া বলছে, তারাও এ যুদ্ধের সমাপ্তি চায়। তবে এজন্য ইউক্রেনকে মস্কোর দাবি করা চারটি অঞ্চল পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে এবং সংঘাতের ‘মূল কারণগুলোর’ সমাধান করতে হবে।
নিজের ভাষণে জেলেনস্কি রাশিয়াকে আগামী মাসের সংসদীয় নির্বাচনকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে আরেকটি বড় আকারের সামরিক সমাবেশের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্যও অভিযুক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘তারা শরতে সংসদীয় নির্বাচনের ঠিক পরেই সৈন্য সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ধরনের সমাবেশের মাধ্যমে তারা এমন একটি ধারণা তৈরি করতে চায় যে রুশরা দৃশ্যত যুদ্ধকে সমর্থন করছে।’
তবে মস্কোর কর্মকর্তারা এর আগেই সেনা সমাবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা অস্বীকার করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া চার বছর আটক থাকার পর সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা রবার্ট গিলম্যানকে মুক্তি দিয়েছে।
তিনি বলেন, পুতিন মানবিক কারণে ৩২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে সম্মত হয়েছেন। এর বিনিময়ে ওয়াশিংটন কোনো বন্দিকে মুক্তি দেয়নি।