মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে প্রায় ৪২ শতাংশ ম্যাচ জিতেছে। রেকর্ডটা একেবারে খারাপ না! তার অধিনায়কত্বেই বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে। কিন্তু এরপরও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ হারকে কারণ বানিয়ে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মিরাজের অধিনায়কত্ব!
এখনও আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষণা না আসলেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ হারের পর ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে মিরাজকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি)। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে বুধবারের (২৯ জুলাই) বোর্ড সভাতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
যেহেতু আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই আসেনি, তাই স্বাভাবিকভাবেই মিরাজকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারেও বিসিবির কোন মন্তব্যও পাওয়া যায়নি এখনও। তবে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মিরাজের অধিনায়কত্বে কোন ধরনের ক্যারিশমা খুঁজে পায়নি। বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতেলেও মিরাজের অধিনায়কত্বে ছিল বহু নেতিবাচক দিক। ক্রিকেট পাড়ার ওপেন সিক্রেট হচ্ছে মিরাজ অধিনায়ক হিসেবে যথেষ্ট আগ্রাসী নন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ সিরিজগুলো জিতেছে দলীয় পারফরম্যান্সে দারুণ ভারসাম্য থাকায়।
মিরাজকে যদি ওয়ানডের নেতৃত্বে থেকে সরিয়েই দেওয়া হয়, তাহলে সেই দায়িত্ব কার কাঁধে পড়বে? বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বর্তমান টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। যদিও বোর্ডের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, পরিচালকদের মতামতের ভিত্তিতেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
শুরুতে টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ওয়ানডের দায়িত্বও দেওয়ার আলোচনা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সাদা বলের ক্রিকেটে একই ধরনের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ভাবনা থেকেই লিটনকে এগিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিলে তৎকালীন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড মেহেদী হাসান মিরাজকে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত ওয়ানডে দলের অধিনায়ক ঘোষণা করেছিল।