প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাত সম্প্রসারণের কথা বিবেচনা করছেন, তখন তাকে আরও শক্তিশালী সামরিক বিকল্প দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা, চিকিৎসক এবং অস্ত্রশস্ত্র পাঠাচ্ছে। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ডেটা এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে বিশেষ অভিযান বাহিনী এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।
একজন কর্মকর্তার মতে, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধবিমানের স্কোয়াড্রনগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং অভিযান জোরদার করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ঘাঁটিগুলোতে থাকা বোমারু বিমানগুলো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে ।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) টানা দ্বাদশ রাতের মতো ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এই হামলায় রামশির, আহভাজ এবং বুশেহর প্রদেশের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানা হয় । গত তিন রাতে তিন দফা অভিযানে মোট ৩০০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি সেন্টকমের।
এদিকে, কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রু ড্রোন প্রতিহত করেছে, যেটিকে তারা একটি ইরানি হামলা বলে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার দায় স্বীকার করেছে ।
এই পরিস্থিতির মধ্যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে লক্ষ্যবস্তু হওয়া প্রতিটি জাহাজের জন্য একটি করে ইরানি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা ফেলার হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ‘চোখের বদলে চোখ’ জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ।
আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা নীতি সুস্পষ্ট: যেমন কর্ম তেমন ফল। আমাদের অবকাঠামোসহ ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।”
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলোর একটি, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয় । এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ওমানি উপকূল ঘেঁষে প্রণালী অতিক্রমকারী ট্যাংকারগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।
ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারকে বাধা দিয়েছে এবং প্রণালীটি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দাবিকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়েছে ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিবৃদ্ধি এবং ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুমকি আগামী দিনে এই অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।