যুদ্ধের এক হাজারতম দিনে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় রাশিয়ায় দূরপাল্লার আতাকামাস মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এই হামলার জেরে রাশিয়া তাদের পরমাণু নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।
মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন নিউক্লিয়ার ডকট্রিনের ডিক্রি জারি করেন, যা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা নীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক অঞ্চলের কারাচেভ শহরের একটি সামরিক স্থাপনা আতাকামাস মিসাইল দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। সীমান্ত থেকে ১৩০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত শহরটিতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির মাত্র দুই দিনের মাথায় ইউক্রেন এ হামলা চালায়।
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের ঘোষিত নতুন পরমাণু ডকট্রিনে বলা হয়েছে, যদি কোনো দেশ পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের সহায়তায় রাশিয়ায় হামলা চালায়, তাহলে সেই দেশকে পরমাণু হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করবে মস্কো। নতুন নীতিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল, হাইপারসনিক মিসাইল, ড্রোন, এবং মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের হামলাকে যৌথ হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। এমনকি জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণও এর আওতায় পড়বে।
রাশিয়ার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ জানান, “পরমাণু অস্ত্রকে রাশিয়া প্রতিরক্ষার মাধ্যম হিসেবে দেখে। গুরুতর পরিস্থিতি ছাড়া এই অস্ত্র প্রয়োগ করা হবে না। তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সামরিক নীতিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য এই পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। নতুন ডকট্রিন রাশিয়া ও বেলারুশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, শিগগিরই রাশিয়ার পক্ষে লড়াইয়ে যোগ দিতে পারে ১ লাখ উত্তর কোরীয় সেনা। বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বেও উদ্বেগ বাড়ছে।
এই নতুন পরিস্থিতিতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইউক্রেনের হামলা এবং রাশিয়ার পাল্টা হুমকি বিশ্বে একটি নতুন পরমাণু সংঘাতের শঙ্কা তৈরি করেছে।


