পড়ুয়া জাতি পথ হারায় না

0
169

বিশ্বমানবতার মুক্তির উদ্দেশে উচ্চারিত ইসলাম ধর্মের প্রথম আহ্বান হলো, ‘পড়ো, তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ সব অধিকার ও কর্তব্য ছাপিয়ে ইসলাম শিক্ষাগ্রহণকে সর্বপ্রধান ও সর্বপ্রথম কর্তব্য বলে ঘোষণা করেছে। সুতরাং শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

গত দেড় দশক আগেও ঘরে ঘরে বই পড়ার সংস্কৃতি ছিল। বর্তমান সময়ের ছেলেমেয়েদের মধ্যে সেটা কল্পনা করা যায়? তাদের পাঠ্য বইয়ের মধ্যে অন্যকিছু লুকানো থাকে এবং সেটা মোবাইল! এমনকি ধর্মপ্রাণ মুসলিম পরিবারগুলো থেকে সকাল বেলা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের যে শব্দ ভেসে আসত তাও এখন চরমভাবে অনুপস্থিত।

মোবাইল-ইন্টারনেট আমাদের অনেকগুলো ভালো অভ্যাস সমূলে বিনাশ করে দিচ্ছে। যে প্রজন্ম সারাদিন মোবাইল নিয়ে বসে থাকে, ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ, শর্টস-রিলসে যাদের সময় কাটে তাদের দিয়ে ১০০ পৃষ্ঠার একটি বই পড়ানো খুব কঠিন কাজ। বই পড়ার জন্য যে আগ্রহ ও ধৈর্য দরকার তাও দেখা যায় না। অথচ বই না পড়লে মেধার বিকাশ, চারিত্রিক সৌন্দর্য, মানবিকতা বোধ ও নৈতিকতা গড়ে উঠবে না।

দেশব্যাপী পাঠাগার আন্দোলনকে ব্যাপৃত করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বই পড়াকে আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। এ জন্য দেশব্যাপী সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং সাহিত্য চার্চার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস ও জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি করতে না পারলে আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা মুশকিল। বইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যতীত মানুষ তাদের দায়িত্ব সম্পর্কের সচেতন হয় না। জাতীয়তাবোধ ও দেশাত্মবোধ জাগ্রত হয় না। যে জাতি যত বেশি পড়ে সে জাতির মধ্যে অপরাধ প্রবণতা তত কম। এমনকি পড়–য়ারা নিজেদের নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারে এবং তারা কখনো পথ হারায় না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here