২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ‘শহীদদের’ তালিকা নিয়ে প্রথম গেজেট প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার (১৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রথম গেজেটে সারাদেশের ৮৩৪ জন ‘শহীদের’ নাম স্থান পেয়েছে।
সরকারের গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ‘শহীদ’ ও আহত ব্যক্তিদের প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছিল গত ২১ ডিসেম্বর।
এ তালিকায় ৮৫৮ জন শহীদের নামের পাশাপাশি আহতদের তালিকায় ১১ হাজার ৫৫১ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় পাঁচ দশক আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবারের সেবা এবং যুদ্ধাহত যোদ্ধাদের সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যুর এবং বিশ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার পর, তাদের সেবা ও সহায়তার জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবিতে ২০২৪ সালে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে তীব্রতা পায়। ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে রংপুরের আবু সাঈদসহ সারাদেশে ছয়জন নিহত হওয়ার পর আন্দোলন সহিংস আকার ধারণ করে।
আন্দোলন থামাতে দমন-পীড়ন আর মৃত্যুর মিছিলের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সরকার পতনের একদফা আন্দোলনে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার ঢাকামুখী জোয়ারের মধ্যে ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর জুলাই-আগস্টে নিহত এবং আহতদের তালিকা তৈরি করতে গত ১৫ অগাস্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে। যাচাই বাছাই শেষে বুধবার শহীদদের নাম প্রকাশ করে প্রথম গেজেট হল।

