ইজতেমায় নিরাপত্তা দিতে র‌্যাবের নানা উদ্যোগ

0
107
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ইজতেমায় নিরাপত্তা দিতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছর তিন ধাপে ৩ দিন করে ইজতেমা মোট নয় দিন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপে ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৩-৫ ফেব্রুয়ারি ও তৃতীয় ধাপে ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের এলাকায় যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে র‌্যাব। সব ধরনের ঝুঁকি পর্যালোচনা করে সার্বক্ষণিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাবও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।

এতে বলা হয়, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে র‌্যাব ফোর্সেস অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। ইজতেমা এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহে নিয়মিত টহল জোরদার ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে পর্যাপ্ত সংখ্যক র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর, র‌্যাব-১-সহ ঢাকার ফাঁচটি ব্যাটালিয়ন ইজতেমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে।

র‌্যাব জানিয়েছে, ইজতেমা এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করতে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ইজতেমা মাঠ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও ইউনিফর্মে টহল বৃদ্ধি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সুইপিং টিম দিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য র‌্যাবের স্পেশাল টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং পর্যাপ্ত স্ট্রাইকিং ও রিজার্ভ ফোর্স সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইজতেমা ময়দান ঘিরে উঁচু ভবনগুলোতে বাইনোকুলারসহ র‌্যাব সদস্য নিয়োগ এবং র‌্যাবের অবজারভেশন পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ইজতেমা এলাকা মনিটরিং করা হচ্ছে। নৌপথে যে কোনো বিশৃঙ্খলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রোধে চলমান টহলের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক নৌ-টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। ইজতেমা এলাকার আশপাশে উচ্ছৃঙ্খলতা, মাদকসেবন, ছিনতাই, পকেটমার, মলমপার্টি ইত্যাদির দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

র‌্যাব জানায়, বিদেশি মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য বিদেশি খিত্তা এলাকায় অনুপ্রবেশ রোধে সতর্ক দৃষ্টি ও নজরদারি রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিং এলাকাসহইজতেমা এলাকায় অবৈধ টোল বা চাঁদা আদায় করতে না পারে সে বিষয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইজতেমামুখী যানবাহন ও যাত্রীদের তল্লাশির জন্য চেরাগআলী বাসস্ট্যান্ড, টঙ্গী কালীগঞ্জ রোড, উত্তরা নর্থ টাওয়ারের সামনে এবং আশুলিয়া কামারপাড়া এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইজতেমা এলাকায় র‌্যাবের চিকিৎসা কেন্দ্র সার্বক্ষণিকভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। র‌্যাবের পর্যাপ্ত সংখ্যক মেডিকেল টিম এবং অ্যাম্বুলেন্স মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত থাকবে। বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের দিন আগত ও ঘরমুখী মুসল্লিরা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য র‌্যাবের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা চলমান থাকবে।

এতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্র ও ধর্মবিরোধী অপপ্রচার/গুজব রোধে র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে নজরদারি অব্যাহত রাখছে। ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করতে কোনো ব্যক্তি/স্বার্থান্বেষী মহলের অপচেষ্টা/অপপ্রচার কঠোর হস্তে দমন করতে প্রস্তুত রয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব আরও জানায়, বিশ্ব ইজতেমা সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে র‌্যাব ফোর্সেসসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া উক্ত সময়ে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে র‌্যাবের সহযোগিতা পেতে টহল ইনচার্জ অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত র‌্যাব ব্যাটালিয়নকে অবহিত করণসহ র‌্যাবকে (র‌্যাব কন্ট্রোল রুমের হটলাইন নম্বরে (০১৭৭৭৭২০০২৯) জানানোর জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here