ক্যারিবিয়ানে তাণ্ডব শেষে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে ধেয়ে আসছে এরিন

0
58

আটলান্টিক মহাসাগরে তৈরি হওয়া ভয়ংকর ঝড় হারিকেন এরিন এখন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। সমুদ্রের উঁচু ঢেউ, বিপজ্জনক স্রোত (রিপ কারেন্ট) এবং প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও এটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানবে না বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তবুও এর প্রভাবে প্রাণঘাতী পরিস্থিতির ঝুঁকি রয়ে গেছে।

হারিকেন এরিন চলতি বছরের আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম বড় ঝড়। গত শনিবার (১৬ আগস্ট) ঝড়টি হঠাৎ করেই শক্তি বাড়িয়ে ক্যাটাগরি-৫ পর্যায়ে পৌঁছায়, যা সমসাময়িক রেকর্ডে অন্যতম দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করা ঝড় হিসেবে ধরা হচ্ছে। পরে কিছুটা দুর্বল হয়ে এটি সোমবার (১৮ আগস্ট) ক্যাটাগরি-৪ স্তরে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানায়, এই সময়ে ঝড়টির সর্বোচ্চ বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩০ মাইল (২১০ কিলোমিটার)। বিশেষ করে নর্থ ক্যারোলাইনার আউটার ব্যাংকসে সমুদ্রের প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের কারণে বাধ্যতামূলক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এর তাণ্ডব দেখিয়েছে। তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস ও দক্ষিণ-পূর্ব বাহামাসে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে এবং সর্বোচ্চ ছয় ইঞ্চি (১৫.২ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব দ্বীপে ট্রপিক্যাল স্টর্ম ওয়ার্নিং জারি করা হয়েছে, জনসেবা স্থগিত করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। বাহামাসের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জনগণকে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত করতে বলেছে। পুয়ের্তো রিকোতে ২৪ ঘণ্টায় ৮২ মিলিমিটার এবং অ্যাঙ্গুইলাতে ৬২.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে ঝড়ো হাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অন্তত ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। যদিও স্থানীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি জরুরি মেরামত শেষে রোববারের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার করেছে।

এনএইচসি জানিয়েছে, ঝড়টি মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দক্ষিণ-পূর্ব বাহামাসের পূর্ব দিয়ে অতিক্রম করে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে বারমুডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের মাঝ দিয়ে যাবে। এ সময়েও এটি “একটি বড় এবং বিপজ্জনক হারিকেন” হিসেবেই থাকবে। ফলে নর্থ ক্যারোলাইনার আউটার ব্যাংকসে ২০ ফুট (৬ মিটার) পর্যন্ত উঁচু ঢেউ, ঝড়ো জলোচ্ছ্বাস এবং উপকূলীয় বন্যা হতে পারে। এই কারণে ওক্রাকোক ও হ্যাটেরাস দ্বীপ থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে প্রাণঘাতী রিপ কারেন্ট এবং ঝড়ো বাতাসের হুমকিও জারি থাকবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের ঝড় আরও ভয়ংকর ও তীব্র হচ্ছে। উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠ ঝড়কে দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করতে সহায়তা করছে, আর উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বৃষ্টিপাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি জলোচ্ছ্বাসকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। হারিকেন এরিনের দ্রুত শক্তি অর্জন তারই সাম্প্রতিক প্রমাণ।

তথ্যসূত্র : বিবিসি, এএফপি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here